মতুয়াদের হেনস্তা মামলায় গ্রেপ্তার মাত্র একজন, বাকি অভিযুক্তদের ধরতে আল্টিমেটাম

মতুয়াদের হেনস্তা মামলায় গ্রেপ্তার মাত্র একজন, বাকি অভিযুক্তদের ধরতে আল্টিমেটাম

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


উত্তর 24 পরগণা – রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরপন্থী মতুয়াদের হেনস্তার ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র একজন। এই অবস্থায় বাকি অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিতে নিশান হাতে গাইঘাটা থানার সামনে বিক্ষোভে নামলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সদস্যরা। পাশাপাশি আগামী ৫ জানুয়ারি রাজ্যজুড়ে পথ অবরোধের ডাকও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তাঁর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে প্রতিবাদ সভার ডাক দেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের আরেক সংঘাধিপতি তথা তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। অভিযোগ, সেই সভাস্থলেই শান্তনু ঠাকুর ও তাঁর অনুগামীদের হাতে গোঁসাই-পাগলরা আক্রান্ত হন।
এই হামলায় গুরুতর জখম হন গোঁসাই পরিষদের সম্পাদক নান্টু হালদার। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ঘটনার পর গাইঘাটা থানায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। যদিও পুলিশ এখনও পর্যন্ত মাত্র একজনকেই গ্রেপ্তার করেছে।
মাত্র একজন গ্রেপ্তার হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন মমতাবালাপন্থী মতুয়ারা। এদিন ঠাকুরনগরে মমতাবালা ঠাকুরের নেতৃত্বে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের একটি জরুরি বৈঠক হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এই হামলা এবং হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের অসম্মান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এর প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে পথ অবরোধের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চৌধুরী জানান, ৫ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মতুয়ারা পথ অবরোধ করবেন। তাঁর অভিযোগ, “একজন গ্রেপ্তার হয়েছে, বাকি ১২ জন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আমাদের ভয় দেখাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। যতক্ষণ না সবাইকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।”
এদিকে শান্তনু ঠাকুর পরিচালিত মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন গাইন এই কর্মসূচি নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অবরোধ কর্মসূচি করতেই পারে তারা, তবে সেদিন মতুয়ারা বুঝিয়ে দেবেন যে তারা এই আন্দোলনের সঙ্গে নেই। পরিস্থিতি ঘিরে মতুয়া সমাজে বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top