দেশ – দেশজুড়ে শুরু হয়েছে হোলি উৎসব। বিভিন্ন প্রান্তে নানা আচার ও রীতিতে পালিত হয় এই রঙের উৎসব। তবে ব্রজভূমিতে হোলির মাহাত্ম্য আলাদা। প্রায় ৪০ দিন ধরে ব্রজে চলতে থাকে হোলি উদযাপন। বিভিন্ন প্রাচীন ও বিখ্যাত মন্দিরে ঐতিহ্য মেনে পালিত হয় উৎসব। তেমনই এক বিশেষ আকর্ষণ হল দৌজি মহারাজ মন্দির-এর হুরাঙ্গা হোলি।
উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার বলদেবে অবস্থিত এই মন্দিরে পালিত হুরাঙ্গা হোলি দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলতি বছরে এই উৎসব উদযাপিত হবে। এখানে এক অভিনব রীতি দেখা যায়—মহিলারা পুরুষদের চাবুক দিয়ে আঘাত করেন, আর পুরুষেরা ঢাল দিয়ে তা রুখতে চেষ্টা করেন। ভেষজ রঙের সঙ্গে পলাশের জল মিশিয়ে বিশেষ রং তৈরি করা হয়, যা দিয়ে একে অপরকে রাঙিয়ে তোলা হয়।
এই প্রাচীন মন্দিরটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দাদা বলরামকে উৎসর্গীকৃত। মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রায় সাত ফুট উঁচু বলরামের মূর্তি স্থাপিত রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছেন তাঁর স্ত্রী রেবতী। মন্দিরটি গোপাল লাল জি এবং বল ভদ্রকুণ্ড নামেও পরিচিত। মথুরা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থানে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে হোলি উদযাপন শেষ হওয়ার পর বিশেষভাবে পালিত হয় হুরাঙ্গা হোলি।
এই মন্দির ভগবান কৃষ্ণ ও তাঁর দাদা বলরামের ভ্রাতৃত্ব এবং গোপীদের প্রেমের এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ব্রজের হোলি শুধু রঙের উৎসব নয়, এটি ভক্তি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের এক অনন্য প্রকাশ। তাই প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী হুরাঙ্গা হোলির সাক্ষী থাকতে মথুরায় ভিড় জমান।


















