আলিপুরদুয়ার- মদ্যপানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তির শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি। বাবার মদের নেশার প্রতিবাদ করায় ছেলের সঙ্গে চলছিল নিয়মিত বচসা। শেষমেশ একই দিনে আত্মহত্যা করলেন বাবা ও ছেলে—এমনই মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা আদিবাসী এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে শামুকতলা থানার গারোখুটা এলাকায়। মৃতদের নাম গঙ্গা খড়িয়া ও তাঁর বাবা এঁতোয়া খড়িয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এঁতোয়া দীর্ঘদিন ধরেই মদ্যপান করতেন। মদের নেশায় বাড়িতে এসে প্রায়ই অশান্তি করতেন তিনি। ছেলে গঙ্গা একাধিকবার বাবাকে মদ্যপান ছাড়তে অনুরোধ করেছিলেন, এমনকি প্রতিবাদও করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
মঙ্গলবার রাতে ফের মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফেরেন এঁতোয়া। তা নিয়েই বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অশান্তির মাঝেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান গঙ্গা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গঙ্গার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান গঙ্গার বাবা এঁতোয়াও। ছেলের ঝুলন্ত দেহ দেখে কার্যত ভেঙে পড়েন তিনি। এরপর বাড়িতে ফিরে যান এঁতোয়া। পরিবারের সদস্যরা যখন গঙ্গার দেহ নামানো ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত, সেই সুযোগে অনুশোচনায় ও মানসিক বিপর্যয়ে ঘরের সিলিং থেকে ঝুলে পড়েন এঁতোয়াও। অল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা ও ছেলের আত্মহত্যায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা পরিবার ও এলাকা।
একই দিনে স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবারের কর্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় হতবাক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শামুকতলা থানার পুলিশ। পুলিশ দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক অবসাদের দিকটিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।




















