দেশ – মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়াল নয়াদিল্লি। ইরান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে কথা বলেন হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা এবং মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে। সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে উভয় দেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর পক্ষে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
সৌদি আরবের যুবরাজের সঙ্গে আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা হয় বলে জানা গেছে। ভারতের তরফে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সৌদি প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে বাহরিনের রাজার সঙ্গে কথোপকথনেও হামলার নিন্দা জানায় ভারত। প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষার বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ উদ্যোগের উপর জোর দেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান তিনটি মূল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে—হামলার স্পষ্ট নিন্দা ও সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ওই অঞ্চলে কর্মরত থাকায় যে কোনও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব সরাসরি তাঁদের উপর পড়তে পারে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে জরুরি সহায়তা ব্যবস্থাও প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা টানাপোড়েনের আবহে ভারত একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে সংলাপ, স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে জোর দেওয়াই দিল্লির বার্তা। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক ফোনালাপ ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক উপস্থিতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।



















