মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সতর্কতা, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের জরুরি বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সতর্কতা, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের জরুরি বৈঠক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ – পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত ঘিরে দেশে গ্যাস সিলিন্ডারের সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক করল কেন্দ্র সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিব ও পুলিশ প্রধানদের সঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের প্রস্তুতি যাচাই করা এবং ঘরোয়া গ্যাস সরবরাহ যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে তা নিশ্চিত করা।
প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন্দ্রের একাধিক দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তেল মন্ত্রক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এবং ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের সচিবরাও আলোচনায় অংশ নেন। গত ৮ মার্চ জারি হওয়া গ্যাস নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাসের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্যাস শোধনাগার কেন্দ্র, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন স্থানীয় স্তরে গ্যাসের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও মজুতদারি বা কালোবাজারির ঘটনা ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে অযথা আতঙ্ক না ছড়ায়, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র। এই কারণে রাজ্যগুলিকে সচেতনতা প্রচার শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির সহযোগিতায় সাধারণ মানুষকে জানাতে বলা হয়েছে যে ঘরোয়া গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবর বা পুরনো ভিডিও দ্রুত শনাক্ত করে সরিয়ে দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়েছে, দেশের শোধনাগার ও রাসায়নিক শিল্প কেন্দ্রগুলিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে এবং ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিতে। হোটেল বা রেস্তোরাঁর মতো বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহে কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলেও হাসপাতাল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে সেই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণ কক্ষও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সেখানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এবং তেল মন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের যুক্ত করা হয়েছে, যাতে দ্রুত তথ্য যাচাই করা যায় এবং রাজ্যগুলিকে সময়মতো সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top