দেশ – মাসের পর মাস ধরে চলা অনিশ্চয়তা, শুল্ক নিয়ে টানাপড়েন এবং একাধিক দফা আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর অবশেষে চূড়ান্ত হল ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি। সোমবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের পর এই বহুল প্রতীক্ষিত সমঝোতায় পৌঁছন দুই দেশ। সরকারি বিবৃতি প্রকাশের আগেই ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় চুক্তির কথা ঘোষণা করে একে ব্যক্তিগত কূটনীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ ট্রাম্প জানান, মোদীর অনুরোধে ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। তিনি মোদীকে ‘বন্ধু’ ও ‘সম্মানীয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ঘোষণার ফলে ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন গতি পাবে।
নতুন চুক্তির ফলে দীর্ঘদিন ধরে ২৫ শতাংশ শুল্কের চাপে থাকা ভারতীয় রফতানি ক্ষেত্র বড় স্বস্তি পেল। টেক্সটাইল, কেমিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী, অটো কম্পোনেন্টসহ একাধিক ক্ষেত্রে মার্কিন বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতে শুল্ক বৃদ্ধির যে ধাক্কা লেগেছিল, এই সিদ্ধান্তে তা অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ ‘জরিমানা’ শুল্ক তুলে নেওয়া। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে আমেরিকা এবং প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলা থেকেও জ্বালানি কিনতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি কূটনীতিতেও দুই দেশের সমঝোতার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
২০২৫ সালের অগস্টে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়ানোর যে ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছিলেন, নতুন চুক্তিতে সেই সিদ্ধান্ত কার্যত প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই ঘোষণার পর মার্কিন বাজারে ভারতের রফতানি নিয়ে যে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, নতুন সমঝোতায় তা অনেকটাই কমল বলে মত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের।
চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা এবং অন্যান্য সামগ্রী কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধা শূন্যে নামানোর কথাও জানানো হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও সম্প্রসারিত করবে।
ফোনালাপের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া পণ্যের জন্য ১৮ শতাংশ শুল্ক অত্যন্ত স্বস্তির খবর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।’ ভারতের মার্কিন দূতাবাসের তরফে রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, চূড়ান্ত শুল্ক বর্তমানে ১৮ শতাংশেই স্থির হয়েছে এবং এখন কেবল কিছু প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া বাকি। সব মিলিয়ে, এই চুক্তিকে ভারত–আমেরিকা অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




















