মধ্য এশিয়ায় উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে কূটনৈতিক বার্তা: ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দাবি ঘিরে জল্পনা

মধ্য এশিয়ায় উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে কূটনৈতিক বার্তা: ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দাবি ঘিরে জল্পনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – মধ্য এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ইরান নাকি বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে সম্মত হয়েছে। যদিও এই দাবি তিনি আগেও একাধিকবার করেছেন, এবার তিনি আরও দৃঢ়ভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং ইঙ্গিত দেন যে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপহার” দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই উপহারটি পারমাণবিক নয়, বরং তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে কোনও অস্থিরতা তৈরি হলে তা সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
গত কয়েক মাসে ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ঘিরে উদ্বেগ অনেকটাই বেড়েছে। তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা এবং বাজারে অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখা ওয়াশিংটনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, “তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে, এবং সেটি আজ পৌঁছেছে। এটি খুব বড় একটি উপহার, যার মূল্য বিপুল। এটি পারমাণবিক নয়, বরং তেল ও গ্যাস সম্পর্কিত।” তবে এই ‘উপহার’-এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে তিনি অস্বীকার করেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যে আরও দাবি করা হয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে কার্যত জয়ী হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা ইরান-এর পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছি, যা মধ্য এশিয়ায় আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারত।” তিনি আরও বলেন, ইরানের নৌবাহিনী, নেতৃত্ব এবং রাডার ব্যবস্থা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এই সামরিক অভিযান ছিল “অসাধারণ সাফল্য”।
এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ-এর কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হেগসেথ এত দ্রুত সংঘাতের সমাপ্তি চাননি। যদিও ট্রাম্প কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা বলছেন, তবুও ইরান সরকার এই সমস্ত দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েল-এর সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসেনি।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top