অফ বিট – ওড়িশার হৃদয়ে মহানদীর বুকে কাটা বিস্তীর্ণ গিরিখাতকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অপূর্ব সাতকোশিয়া টাইগার রিজার্ভ। নামের সঙ্গে ‘টাইগার রিজার্ভ’ থাকলেও এখানে বাঘের দেখা খুব কমই মেলে। তবে সেই অভাব ঢেকে দেয় সবুজে মোড়া পাহাড়, ঘন অরণ্য, স্বচ্ছ নদীর জল এবং প্রকৃতির গভীর নীরবতা। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েকটা দিন প্রকৃতির কোলে কাটাতে চাইলে সাতকোশিয়া হতে পারে একেবারে নিখুঁত ঠিকানা। বন্যপ্রাণ, অ্যাডভেঞ্চার এবং ইকো-ট্যুরিজম—সব মিলিয়ে এটি এক অন্যরকম অভিজ্ঞতার দুনিয়া।
সাতকোশিয়ায় পৌঁছানোর সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হল প্রথমে বিমান বা ট্রেনে ভুবনেশ্বর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে যাত্রা করা। ভুবনেশ্বর থেকে সাতকোশিয়ার দূরত্ব আনুমানিক ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার। গাড়ি ভাড়া করে অথবা স্থানীয় বাসে আঙ্গুল, টিকরপাড়া কিংবা বালিপুটের দিকে যাওয়া যায়। ভুবনেশ্বর থেকে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই প্রাকৃতিক স্বর্গে।
সাতকোশিয়ার মূল আকর্ষণ ‘সাতকোশিয়া গর্জ’, যা প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এক মনোমুগ্ধকর নদী গিরিখাত। এটি ভারতের অন্যতম সুন্দর নদী উপত্যকা হিসেবে পরিচিত। জঙ্গলের পথে চলতে চলতে চোখে পড়তে পারে হরিণ, গৌর, বন্যশূকর কিংবা নানা রঙের পাখি। টিকরপাড়া এলাকায় রয়েছে কুমির সংরক্ষণ প্রকল্প, যা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। সন্ধ্যাবেলায় মহানদীর তীরে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের আড়ালে সূর্যাস্তের দৃশ্য যেন রঙতুলিতে আঁকা এক অপূর্ব ছবি।
এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা। বনদফতরের অনুমতি নিয়ে জিপ সাফারিতে জঙ্গলের ভেতর ঘুরে বন্যপ্রাণ দেখার রোমাঞ্চ উপভোগ করা যায়। মহানদীর শান্ত জলে বোটিং বা কায়াকিং করাও এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। শীতকালে এখানে বহু পরিযায়ী পাখি আসে, তাই দূরবীন সঙ্গে থাকলে পাখি দেখার আনন্দ আরও বেড়ে যায়। নদীর ধারে ইকো-ক্যাম্পিংয়ের সুযোগও রয়েছে, যেখানে তাঁবুতে রাত কাটিয়ে তারাভরা আকাশ আর ক্যাম্পফায়ারের উষ্ণতা উপভোগ করা যায়। এছাড়াও পাহাড়ি পথে ট্রেকিং বা নেচার ওয়াক করতে করতে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ মেলে।
সাতকোশিয়া এমন এক গন্তব্য যেখানে প্রকৃতি এখনও অনেকটাই নির্মল ও অক্ষত। অতিরিক্ত ভিড় নেই, দূষণ কম, আর চারপাশে কেবল সবুজের সমারোহ। যারা জঙ্গল, পাহাড় এবং নদীর মিলিত সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ ভ্রমণস্থান। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটানো হোক বা ফটোগ্রাফির শখ—সব ক্ষেত্রেই সাতকোশিয়া এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দেয়।



















