অফ বিট – দক্ষিণ ভারতের বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী ঐতিহাসিক শহর মহাবলীপুরম (মামল্লাপুরম) ইতিহাসপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। প্রাচীন শিলাখোদাই মন্দির, পাথরের ভাস্কর্য এবং নীল সমুদ্রের মনোরম মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই শহর যেন প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের এক অসাধারণ সংমিশ্রণ। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রটি বিশ্বের পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। উইকএন্ড ট্রিপ হোক বা ৩-৪ দিনের ছুটি—কলকাতা থেকে মহাবলীপুরম ভ্রমণ হতে পারে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
মহাবলীপুরম মূলত পল্লব যুগের (৭ম-৮ম শতক) স্থাপত্য ও শিলাখোদাই শিল্পের জন্য বিখ্যাত। প্রতিটি পাথর এখানে যেন অতীতের গল্প বহন করে। সমুদ্রতীরে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। তুলনামূলক কম ভিড় এবং শান্ত পরিবেশের কারণে চেন্নাই শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য এটি আদর্শ স্থান।
এখানে দেখার মতো প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে শোর টেম্পল, যা বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। সূর্যোদয়ের সময় এর দৃশ্য বিশেষভাবে দৃষ্টিনন্দন। পঞ্চ রথ হল পাঁচটি রথাকৃতির মনোলিথিক স্থাপত্য, যা পল্লব যুগের শিল্পকলার অনন্য নিদর্শন। অর্জুনস পেন্যান্স একটি বিশাল শিলাখোদাই ভাস্কর্য, যেখানে পৌরাণিক কাহিনি চিত্রিত হয়েছে। এছাড়া কৃষ্ণস বাটার বল নামে পরিচিত বিশাল গোলাকার পাথরটি ঢালু পাহাড়ে অদ্ভুতভাবে স্থিত হয়ে পর্যটকদের বিস্মিত করে। সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য মহাবলীপুরম বিচ উপযুক্ত স্থান, যেখানে আরামদায়ক পরিবেশ, ঠান্ডা হাওয়া এবং সুস্বাদু সি-ফুড উপভোগ করা যায়।
ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময়ে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে। হালকা সুতির পোশাক, সানস্ক্রিন ও টুপি সঙ্গে রাখা ভালো। এখানকার স্থানীয় হস্তশিল্প ও পাথরের মূর্তি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্মারক হিসেবে পরিচিত।
কলকাতা থেকে সরাসরি বিমানে চেন্নাই পৌঁছে সেখান থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে মহাবলীপুরম যাওয়া যায়। ট্যাক্সি বা বাসে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব। ট্রেনেও চেন্নাই গিয়ে সড়কপথে যাত্রা করা যায়। ইস্ট কোস্ট রোড (ECR) ধরে সমুদ্রের পাশ দিয়ে এই ভ্রমণ অত্যন্ত মনোরম ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
ইতিহাস, স্থাপত্য ও সমুদ্রের অনন্য মিলন উপভোগ করতে চাইলে মহাবলীপুরম হতে পারে আপনার পরবর্তী আদর্শ ভ্রমণগন্তব্য।



















