রাজ্য – মহারাষ্ট্রের ভোটে বিজেপির প্রার্থী অথচ বাংলার বীরভূম জেলার ভোটার তালিকায় নাম—এই অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে দুবরাজপুরে। অভিযোগ অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের নাসিকের স্থায়ী বাসিন্দা উজ্জ্বলা আপ্পা বুরুঙ্গুলে চলতি বছরে নাসিক জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী। অথচ ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম উঠে এসেছে বীরভূমের দুবরাজপুর বিধানসভা এলাকার ভোটার হিসেবে।
নির্বাচনী নথি অনুযায়ী, উজ্জ্বলা আপ্পা বুরুঙ্গুলে দুবরাজপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯৪ নম্বর বুথের ভোটার। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, ভিনরাজ্যের একজন সক্রিয় বিজেপি প্রার্থীর নাম কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢুকল। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় তাঁকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সেই নোটিস পেয়ে তিনি হাজিরা দেন। শুনানির পর কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনা সামনে আসতেই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, বহিরাগতদের এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ তারা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে, এ ঘটনা তারই প্রমাণ। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আঁতাত না থাকলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “যিনি নাসিকের বিজেপির ভোটের প্রার্থী, তিনি আবার বাংলার ভোটার। আমরা এটাই তো বারবার বলছি। এটাই কারচুপি। এইভাবেই লুকিয়ে চুরিয়ে নাম ঢোকানো হচ্ছে। এখন চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।”
উজ্জ্বলার স্বামী আপ্পা শংকর বুরুঙ্গুলে পেশায় সোনা-রুপোর পালিশ কারিগর। দুবরাজপুর বাজারে তাঁর একটি দোকান রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত প্রায় দশ বছর ধরে তাঁরা দুবরাজপুরে থাকছেন। তবে তাঁদের বাবা-মা এখনও নাসিকেই থাকেন। বড় ছেলে বাবা-মায়ের সঙ্গে নাসিকে থাকে, ছোট ছেলে থাকে দুবরাজপুরে। তাঁর কথায়, “নাসিকে বিজেপি-শিবসেনার প্রার্থী হিসেবে জেলা পরিষদের আসনে উজ্জ্বলা প্রার্থী হয়েছে।”
এই ঘটনার পর বিজেপির ‘বহিরাগত’ বিরোধী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, যারা বহিরাগত ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সরব, তারাই আবার নিজেরাই ভিনরাজ্যের ভোটারদের বাংলার তালিকায় ঢোকাচ্ছে। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সাগর কুন্ডুর নজরেই প্রথম বিষয়টি আসে। পরে তা দলের নেতৃত্বকে জানানো হয়।
দুবরাজপুর তৃণমূল শহর সভাপতি স্বরুপ আচার্য্য বলেন, “এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বিজেপি বাইরের ভোটার এনে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে।”
অন্যদিকে, ১৯৪ নম্বর পার্টের বিএলও লক্ষণ রেওয়ানী জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ফর্ম আপলোড করা হয়েছিল। শুনানিতে ‘আনম্যাপ’ হওয়ায় আবারও ডাকা হয়েছে। কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনও জানা নেই।
বিজেপির বিধায়ক অনুপ সাহা অবশ্য বলেন, “কেন দু’জায়গায় নাম রয়েছে, সেটা নির্বাচন কমিশনই বলতে পারবে। তবে এটা বাঞ্ছনীয় নয়। আমরা স্বচ্ছ ও বৈধ ভোটার তালিকাই চাই।” নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।




















