রাজস্থান – মহারাষ্ট্র পুরসভা নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেল উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা। দীর্ঘদিনের ঠাকরে প্রভাবের অবসান ঘটিয়ে পুরভোটের ফলাফলে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করল বিজেপি ও একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা জোট। মোট ২২৭টি আসনের মধ্যে ১১৮টিতে জয় পেয়ে পুরসভা দখলের পথে বিজেপি–শিন্দে জোট। অন্য দিকে, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) থেমে গেল মাত্র ৬৫টি আসনে।
ফলাফলের খুঁটিনাটিতে চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি একক ভাবে জিতেছে ৮৯টি আসন। একনাথ শিন্দের শিবসেনা পেয়েছে ২৯টি আসন। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি), রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা এবং শরদ পওয়ারের এনসিপি (এসপি) মিলিয়ে মোট আসন দাঁড়িয়েছে ৭২টি। এর মধ্যে এমএনএস পেয়েছে ৬টি এবং শরদ পওয়ারের দল জিতেছে মাত্র ১টি আসন। এই জোটের প্রধান ভরসা হিসেবে প্রায় পুরো আসনই এসেছে উদ্ধব ঠাকরের দলের দখল থেকে।
কংগ্রেসের ঝুলিতে গেছে ২৪টি আসন। এআইএমআইএম জয় পেয়েছে ৮টিতে। অজিত পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি থেমেছে ৩টি আসনে এবং সমাজবাদী পার্টি পেয়েছে ২টি আসন। সামগ্রিক ফলাফল রাজ্যের রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
এই ফলাফলকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। ১৯৯৭ সাল থেকে টানা প্রায় ২৫ বছর মহারাষ্ট্র পুরসভার ক্ষমতা ছিল অবিভক্ত শিবসেনার হাতে। শেষবার ২০১৭ সালে নির্বাচন হলেও তার মেয়াদ শেষ হয় ২০২২ সালে। এরপর দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পরিষদ না থাকায় পুরনিগমের প্রশাসনিক দায়িত্ব ছিল কমিশনারদের হাতে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট, দীর্ঘ বিরতির পর পুরসভা এবার যাচ্ছে বিজেপি–শিন্দে জোটের নিয়ন্ত্রণে।
অন্য দিকে, ভোটগণনাকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনার ছবিও সামনে এসেছে। শুক্রবার মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরসভায় গণনার সময় অশান্তির খবর পাওয়া যায়। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে একটি গণনা কেন্দ্রে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন প্রাক্তন মেয়র ও শিবসেনা নেতা বিকাশ জৈন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে শিবসেনা এবং মহারাষ্ট্রের সামাজিক ন্যায় বিচার মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাত। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
বৃহন্মুম্বই-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় ফলাফল ও এই উত্তেজনার ঘটনাগুলি মিলিয়ে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এক দিকে পুরভোটে বিজেপি–শিন্দে জোটের বড় সাফল্য রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, অন্য দিকে বিরোধী শিবিরে ক্ষোভ, অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে মহারাষ্ট্র জুড়ে।




















