মহাশিবরাত্রি ২০২৬: ভক্তিভাবনায় দেশজুড়ে শিবআরাধনা, জেনে নিন শুভ সময় ও পূজার নিয়ম

মহাশিবরাত্রি ২০২৬: ভক্তিভাবনায় দেশজুড়ে শিবআরাধনা, জেনে নিন শুভ সময় ও পূজার নিয়ম

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে দেশজুড়ে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার বিশেষ আবহ তৈরি হয়েছে। ভোর থেকেই বিভিন্ন শিবমন্দিরে ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ছে। বিশ্বাস করা হয়, এই পবিত্র তিথিতে শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করলে পাপক্ষয় হয় এবং জীবনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। বিশেষ করে রাতের সময় শিবপুজো অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। তাই সঠিক সময় ও বিধি মেনে পূজা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মহাশিবরাত্রি মূলত ভগবান Shiva-র আরাধনার দিন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাতে মহাদেব নিরাকার থেকে সাকার রূপে প্রকাশিত হন। তাই নিশিতা কাল বা মধ্যরাত্রির মুহূর্তকে সবচেয়ে শক্তিশালী ও শুভ সময় ধরা হয়।
২০২৬ সালে নিশিতা কাল নির্ধারিত হয়েছে রাত ১২:০৯ থেকে রাত ১:০১ পর্যন্ত (১৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাত)। এই সময় জলাভিষেক ও মন্ত্রজপ করলে বহু গুণ বেশি পুণ্য লাভ হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। গঙ্গাজল, দুধ ও মধু অর্পণ বিশেষ শুভ বলে মানা হয়।
শাস্ত্র মতে সারারাত চার প্রহরে শিবপুজো ও জলাভিষেক করা অত্যন্ত ফলপ্রদ। প্রথম প্রহর সন্ধ্যা ৬:১১ থেকে রাত ৯:২৩ পর্যন্ত। দ্বিতীয় প্রহর রাত ৯:২৩ থেকে রাত ১২:৩৫। তৃতীয় প্রহর রাত ১২:৩৫ থেকে ভোর ৩:৪৭। চতুর্থ প্রহর ভোর ৩:৪৭ থেকে সকাল ৬:৫৯ পর্যন্ত, অর্থাৎ সূর্যোদয় পর্যন্ত। সারারাত জাগরণ করে প্রতিটি প্রহরে আলাদা করে অভিষেক করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
পূজার আগে সকালে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরা উচিত। তামার পাত্রে জল নিয়ে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ জপ করতে করতে শিবলিঙ্গে জল অর্পণ করতে হয়। এরপর পঞ্চামৃত—দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি—অর্পণ করা হয়।
পূজার থালিতে রাখা হয় বেলপাতা, ধুতুরা, ভাঙ, আক ফুল, সাদা চন্দন, অক্ষত ও ভস্ম। শেষপর্যন্ত ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে আরতি ও শিবচালিসা পাঠের মাধ্যমে পূজা সম্পন্ন করা হয়।
ভক্তদের বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে এই দিন শিবআরাধনা করলে মহাদেবের আশীর্বাদে জীবনের সব বাধা দূর হয় এবং কল্যাণ লাভ হয়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top