ভাইরাল- ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—এই প্রবাদকে ঘিরেই এবার রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। চুঁচুড়ার বিজেপি নেতা সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে রামের একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সেই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, বিহারে বিজেপি সরকার মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবুও তা সামনে আসতেই রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি বিহারের নগরোন্নয়ন ও আবাসন দপ্তর খোলা জায়গায় মাছ-মাংস বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, খোলা স্থানে বিক্রি করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি লাইসেন্স বাধ্যতামূলক এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক শুরু হয়। ভাইরাল ভিডিওতে বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা যায়, বিহারের নির্দেশিকার মতো পশ্চিমবঙ্গেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ভিডিওটি বিকৃত করা হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, তিনি কখনও মাছ-মাংস খাওয়া নিষিদ্ধের কথা বলেননি। বরং স্বাস্থ্য সচেতনতা, খাদ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে নিয়ম মেনে বিক্রির কথা বলেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “মাছে-ভাতে বাঙালি। এটা বিহার নয়। যারা বলছে মাছ-মাংস বন্ধ করে দেবে, তারা নির্বাচনে বুঝতে পারবে কত ধানে কত চাল।” ভিডিও বিকৃতির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে যা শোনা গেছে, তাতে বক্তব্য স্পষ্ট।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। খাদ্যাভ্যাসের মতো সংবেদনশীল বিষয় নির্বাচনের আগে নতুন করে রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।




















