কলকাতা – শীতের অলস দুপুরে ঘরে মন না টিকলে পকেটে মাত্র ১০০ টাকা নিয়েই বেরিয়ে পড়তে পারেন কলকাতার ঐতিহ্য আর ইতিহাসের খোঁজে। যাতায়াত আর ঘোরার খরচ নিয়ে বিশেষ চিন্তার দরকার নেই। মেট্রো আর হাঁটাপথের যুগলবন্দিতে ডালহৌসি চত্বরের একের পর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা সহজেই ঘুরে দেখা যাবে।
এই যাত্রা শুরু করার সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা হলো গ্রিন লাইন মেট্রোর মহাকরণ স্টেশন। স্টেশন থেকে বেরিয়েই সামনে খুলে যাবে কলকাতার ব্রিটিশ আমলের ইতিহাসের দরজা। কয়েক মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন স্ট্রান্ড রোডের ধারে মিলেনিয়াম পার্কের বিপরীতে থাকা মেটক্যাফে হলে। একসময় এটি ছিল লাইব্রেরি, এখন কলকাতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ মিউজিয়াম। এখানে রয়েছে শহরের প্রথম অডিও-ভিজ্যুয়াল মিউজিয়াম। দুর্গাপ্রতিমার ডাকের সাজ থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমলের নানা নিদর্শন—সবই এক ছাদের নিচে। মাত্র ২০ টাকার টিকিটেই এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করা যায়।
এরপর স্মার্টফোনের যুগে হারিয়ে যাওয়া চিঠিপত্রের সোনালী দিনের খোঁজে ঢুঁ মারতে পারেন পোস্টাল মিউজিয়ামে। এখানে প্রবেশ একেবারেই বিনামূল্যে। নানা আকৃতির পুরোনো লেটার বক্স, ডাকপিওনদের ব্যবহৃত পোশাক, টুপি, চামড়ার ব্যাগ থেকে শুরু করে আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহৃত তলোয়ার ও বন্দুক—সব মিলিয়ে ডাক ব্যবস্থার ইতিহাস যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ঘুরতে ঘুরতে একটু ক্লান্ত লাগলে জেনারেল পোস্ট অফিসের ভেতরে থাকা শিউলি পোস্টাল ক্যাফেতে ঢুকে পড়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। আধুনিক থিম ক্যাফের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো সাজসজ্জার এই জায়গায় আড্ডা আর বিশ্রাম দুটোই মিলবে। এখানে এক কাপ লিকার চায়ের দাম প্রায় ৫০ টাকা, যা বাজেটের মধ্যেই থেকে যায়।
এরপর কাউন্সিল হাউজ স্ট্রিট ধরে পৌঁছে যেতে পারেন আরবিআই মিউজিয়ামে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আদি জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত এই মিউজিয়ামে টাকার বিবর্তন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ছোটদের জন্য রয়েছে ইন্টার্যাকটিভ গেম ও আকর্ষণ। সবচেয়ে ভালো দিক, এখানে প্রবেশ করতে কোনো টাকা লাগে না।
দিনের শেষটা কাটানো যায় সেন্ট জনস চার্চের শান্ত পরিবেশে। বেলেপাথরের তৈরি এই প্রাচীন গির্জার রঙিন কাচের জানলা, পুরোনো স্মৃতিফলক আর ঐতিহাসিক আবহ মন ছুঁয়ে যায়। এখানেই রয়েছে ওয়ারেন হেস্টিংসের অফিসঘর। গির্জার বাগানে পড়ন্ত বিকেলে কিছুটা সময় কাটালে দিনের সব ক্লান্তি যেন মিলিয়ে যায়। প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা।
সব মিলিয়ে হিসেব করলে দেখা যাবে মেটক্যাফে হলের টিকিট ২০ টাকা, শিউলি পোস্টাল ক্যাফেতে চা ৫০ টাকা এবং সেন্ট জনস চার্চে প্রবেশ ২০ টাকা—মোট খরচ ৯০ টাকা। বাকি ১০ টাকা দিয়ে অনায়াসেই কোনো ছোটখাটো জলখাবার খেয়ে নেওয়া যায়। মাত্র ১০০ টাকায় এমন এক ঐতিহ্য ভ্রমণ সত্যিই শীতের দুপুরকে করে তুলতে পারে স্মরণীয়।



















