
নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুর,২৯শে জুলাই :মাত্র ৮ মাস আগে বিয়ে হওয়া এক গৃহবধুর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য দুর্গাপুরের কমলপুর এলাকায়।মৃতার পরিবারের অভিযোগ তাদের”” শিক্ষিতা মেয়ে গলায় দড়ি নিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেনা। তাকে খুন করা হয়েছে।””আটক মৃতার স্বামী ও শ্বাশুড়ি।
দুর্গাপুর থানা এলাকার ইস্পাত নগরী বি-জোন এস এন বোস এলাকার বাসিন্দা দীপা ঘোষ (২৩ বছর)এর সাথে মাত্র ৮ মাস আগে কমলপুরের বাসিন্দা কৌশিক ঘোষ এর বিবাহ হয়।প্রথম ৪ মাস সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পর দীপার পরিবারের অভিযোগ গত চার মাস ধরে কৌশিক দীপার সাথে দুর্ব্যবহার করছিল এবং তার শাশুড়ি মমতা ঘোষ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। মাঝেমধ্যে দীপা তার বাপের বাড়ির লোকেদের এই কথা জানিয়েছিল। সোমবার বাপের বাড়িতে যাওয়ার কথা বর্তমানে একটি বেসরকারি বিএড কলেজের পড়ুয়া দীপার। কিন্তু সোমবার সকাল ১০ঃ৩০ টা নাগাদ ঝুলন্ত মৃতদেহ কমলপুর শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। কৌশিক ঘোষ সাড়ে দশটা নাগাদ ফোন করে দীপার বাবা রঞ্জিত ঘোষকে বলেন, “”আপনার মেয়ে আত্মহত্যা করতে গেছে। আপনারা আসুন।”” এরপর পরিবারের লোকজন কমলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে তারা যখন রাস্তায় আসছিলেন তখন তাদেরকে কৌশিক জানায় দীপাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। এরপরে পরিবারের লোকেরা দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালে গিয়ে দেখেন দীপার নিথর দেহ পড়ে আছে হাসপাতালে। এই ঘটনার জেরে আমি কৌশিক ঘোষ কে হাসপাতালেই চড় থাপ্পড় দেয় দীপার পরিবারের লোকেরা। পুলিশ কৌশিক আর তার মা মমতা ঘোষ কে আটক করে।দীপার বাবা রঞ্জিত ঘোষবলেন,”” আমার মেয়ে শিক্ষিতা।সে কলেজে পড়ছিল। আজ তার আমার বাড়িতে আসার কথা। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। কৌশিক তার ব্যবসা ছেড়ে কোনদিন সকাল দশটায় বাড়িতে যায় না। আজ সে কেন গিয়েছিল? এটাও সন্দেহের। আমরা চাই দীপার মৃত্যু কিভাবে হল তা তদন্ত করে দোষীদের যথাযোগ্য শাস্তি দিক পুলিশ।”” যদিও শ্বাশুড়ি মমতা ঘোষ এর দাবি আমরা খুন করিনি। সে গলায় দড়ি নিয়েছে নিজেই।”” দীপার মা মিঠু ঘোষের অভিযোগ, “”ছেলে এবং মা দুজন ষড়যন্ত্র করত আমার মেয়ের বিরুদ্ধে। আমার মেয়ের সাথে কৌশিক বেশ কয়েক মাস কথা বলছিল না। খুব কষ্ট পেতে থাকে তার জন্য, সে ফোনেও আমাকে জানিয়েছিল। কিন্তু কি ভাবে কি হয়ে গেল আমরা জানি না।”” ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতিতে আজ ময়নাতদন্ত হবে দীপার।তারপরেই জানা যাবে দীপার মৃত্যুর কারন।



















