মানব জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

মানব জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

নিজস্ব সংবাদদাতা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত ২’০, (২১তম পর্ব) অনুষ্ঠানের বাংলা অনুবাদ –আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার। গতকাল মাঘ পূর্ণিমার পুণ্য তিথি ছিল। মাঘ মাসকে নদী, সরোবর, জলসত্রের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়।

আমাদের শাস্ত্রে বলা আছে “মাঘে নিমঘ্নাঃ সলিলে সুশীতে, বিমুক্তপাপাঃ ত্রিদিবম প্রয়ান্তি”।অর্থাৎ, মাঘ মাসে যে কোনও পবিত্র জলাশয়ে স্নান করাকে পবিত্র মনে করা হয়েছে। পৃথিবীর প্রত্যেক সমাজে নদনদীর সঙ্গে যুক্ত কোন না কোন পরম্পরা অবশ্যই থাকে। নদীতটেই বহু সভ্যতার বিকাশও ঘটেছে। যেহেতু আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরনো, তাই এরকম উদাহরণ আমাদের কাছে অনেক। ভারতে সম্ভবত এমন কোনও দিন নেই, যেদিন দেশের কোন না কোন প্রান্তে জলের সঙ্গে যুক্ত কোন উৎসব হয় না। মাঘ মাসে মানুষজন নিজেদের ঘর সংসার, সুখস্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে গোটা মাস নদীর পাড়ে কল্পবাস করতে যান। এই বছর হরিদ্বারে কুম্ভও হচ্ছে। জল আমাদের জন্য শুধু জীবন নয়, আমাদের আস্থা, আবার বিকাশের ধারাও বটে। এক রকম বলতে গেলে, জল পরশপাথরের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়, পরশপাথরের স্পর্শে লোহা সোনা হয়ে যায়। ঠিক সেরকমই, জীবনের জন্য, বিকাশের জন্য জলের স্পর্শ জরুরী।বন্ধুরা, মাঘ মাসের জলের সঙ্গে এই যোগাযোগের সম্ভবত আরও একটা কারণ আছে। এই মাসের পর থেকে ঠাণ্ডা চলে যায়, গ্রীষ্ম দরজায় কড়া নাড়ে। তাই, জল সংরক্ষনের চেষ্টা আগে থেকেই আরম্ভ করা উচিৎ। আর কয়েকদিন বাদেই, মার্চে ২২ তারিখে ‘বিশ্ব জল দিবস’ ও আছে।আমাকে ইউ পি’র আরাধ্যাজি লিখে পাঠিয়েছেন যে দুনিয়ায় কোটি কোটি এমন মানুষ আছেন যারা নিজেদের জীবনের অনেকটা সময় ব্যয় করেন শুধুমাত্র জলের অভাব পুরণ করতে। ‘বিন পানি সব সুন’ মানে জল ছাড়া সব খালি কথাটা অকারণ বলা নয়। পশ্চিম বাংলার উত্তর দিনাজপুর থেকে সুজিত এই জল সঙ্কটের সমাধান করার খুব ভাল উপায় আমাকে পাঠিয়েছেন। সুজিতজি লিখেছেন প্রকৃতি জলসম্পদকে এক সমষ্টিগত উপহার হিসেবে দিয়েছে, তাই একে রক্ষা করার দায়িত্বও সমষ্টিগত। যে উপহার সবার, তার দায়িত্বও সবার। সুজিতজির কথা একদম ঠিক, নদী, পুকুর, ঝিল, বৃষ্টি বা মাটির নীচের জল এই সবই কিন্তু সকলের জন্য।বন্ধুরা, একটা সময় ছিল যখন গ্রামে কুয়ো, পুকুর এগুলির দেখাশোনা সবাই মিলে করত। এরকম একটি প্রচেষ্টা তামিলনাড়ূর তিরুবন্নামলাইতেই করা হচ্ছে। সেখানকার স্থানীয়রা নিজেদের কুয়ো সংরক্ষণের জন্য অভিযান চালাচ্ছেন। এঁরা নিজেদের এলাকায় বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা সার্বজনিক কুয়োগুলি আবার ব্যবহারযোগ্য করে তুলছেন।মধ্যপ্রদেশের অগরোথা গ্রামের ববিতা রাজপুতজি যা করছেন তার থেকে আপনারা সকলে অনুপ্রেরণা পেতে পারেন। ববিতাজির গ্রাম বুন্দেলখন্ডে। ওঁর গ্রামের কাছে কোণ এক সময়ে একটা খুব বড় ঝিল ছিল যা শুকিয়ে গেছিল। উনি গ্রামের অন্যান্য মহিলাদের সাথে মিলে এই শুকিয়ে যাওয়া ঝিলে জল নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি খাল তৈরি করেন। বৃষ্টির জল এই খাল দিয়ে সোজা ঝিলে পৌঁছতে থাকে। এখন সেই ঝিল জলে টইটুম্বুর থাকে।বন্ধুরা, উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বরের বাসিন্দা জগদীশ কুনিয়ালজির কাজও যথেষ্ট শিক্ষণীয়। জগদীশজির গ্রাম ও আশেপাশের এলাকা জলের জন্য একটি প্রাকৃতিক জলাশয়ের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে সেই জলাশয়টি শুকিয়ে যায়। এর ফলে গোটা এলাকায় গভীর জলসঙ্কট দেখা দেয়। জগদীশজি এই সমস্যার সমাধান করার সিদ্ধান্ত নেন বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে। উনি গ্রামের লোকের সঙ্গে একজোট হয়ে হাজারো গাছ লাগান এবং আজ ওঁর এলাকার শুকিয়ে যাওয়া সেই জলাশয় আবার পরিপূর্ণ।বন্ধুরা, জল সম্বন্ধে আমাদের সামগ্রিক দায়িত্বগুলি আমাদের বুঝতে হবে। ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে মে জুন মাস নাগাদ বৃষ্টি আরম্ভ হয়। জলাশয়গুলি পরিস্কার করার জন্য, বর্ষার জল সঞ্চয়ের জন্য একশো দিনের কোন অভিযান আরম্ভ করতে পারেন? এই ভাবনার ভিত্তিতে কিছুদিন পরেই জলশক্তি মন্ত্রাণালয় থেকে এক অভিযান – ‘CATCH THE RAIN” আরম্ভ করা হবে। এই অভিযানের মূল মন্ত্র – ‘CATCH THE RAIN, WHERE IT FALLS, WHEN IT FALLS”। আমরা এখনই প্রস্তুত হব, যে rain water harvesting system গুলি আছে সেগুলি আরও কার্যকরী করে তুলব। গ্রামে যে পুকুর, জলাশয় আছে সেগুলি পরিস্কার করে নেব। জলাশয়ে জল পৌঁছনোর সমস্ত বাধাগুলি আগে থেকেই দূর করে দেব যাতে যতটা সম্ভব বর্ষার জল সঞ্চয় করা সম্ভপর হয়।আমার প্রিয় দেশবাসী, যখনই মাঘ মাস এবং এর সাথে জড়িত আধ্যাত্মিক সামাজিক গুরুত্বের আলোচনা হয়, সেই চর্চা একটি নাম ছাড়া অসম্পূর্ন থাকে। সেই নাম হল সন্ত রবিদাসজির। মাঘ পূর্ণিমার দিনই সন্ত রবিদাসের জন্মজয়ন্তী পালিত হয়। আজও সন্ত রবিদাসের বাণী, তাঁর প্রজ্ঞা আমাদের পথ প্রদর্শন করে।উনি বলেছিলেনঃএকৈ মাটি কে সব ভান্ডে সব কা একৈ সিরজনহার রবিদাস ব্যাপৈ একৈ ঘট ভিতর সব কৌ একৈ ঘড়ৈ কুমহার।আমরা সকলে একই মাটির তৈরি পাত্র। সবাইকেই গড়েছেন একই জন। সন্ত রবিদাস সবসময় সমাজে ছড়িয়ে থাকা বিকৃতিগুলির ব্যাপারে খোলাখুলি নিজের মত প্রকাশ করতেন। উনি সমাজের সামনে সবসময় এই সমস্যাগুলি তুলে ধরেছিলেন এবং সেগুলো শোধরানোর পথ দেখিয়েছিলেন। এই জন্যেই তো মীরা বলেছিলেনঃ “গুরু মিলিয়া রইদাস, দিনহি জ্ঞান কী গুটকি” ।এটা আমার সৌভাগ্য যে আমি সন্ত রবিদাসের জন্মস্থান বারাণসীর সঙ্গে যুক্ত। তাঁর জীবনের আধ্যাত্মিক উচ্চতা এবং তাঁর শক্তি আমি সেই তীর্থস্থল থেকে অনুভব করেছি। বন্ধুরা, রবিদাস বলেছিলেনঃকরম বন্ধন মে বন্ধ রহিয়ো, ফল কি না তজ্জিয়ো আস।করম মানুষ কা ধর্ম হ্যায়, সৎ ভাখয় রবিদাস।।অর্থাৎ আমাদের নিরন্তর নিজেদের কর্ম করে যেতে হবে, এবং ফল আমরা পাবই, কারণ কাজ করলে সিদ্ধিলাভ অনিবার্য। আমাদের যুবাদের সন্ত রবিদাসের থেকে আরেকটি কথা নিশ্চয় শেখা উচিৎ। তাদের কোন কাজ করার সময় পুরনো নিয়ম-কানুনে আবদ্ধ থাকলে চলবে না। নিজেদের জীবনের দিশা আপনারা নিজেরাই ঠিক করুন। নিজেদের নিয়ম আপনারা নিজেই বানান এবং নিজেদের লক্ষ্যও নিজেরাই স্থির করুন। যদি আপনার বিবেক, আপনার আত্মবিশ্বাস দৃঢ় হয় তবে পৃথিবীর কোন কিছুকেই আপনার ভয় পাওয়ার দরকার নেই। আমি এই কথা এই জন্য বলছি, কারণ অনেক সময়ই আমাদের যুব সমাজ বহুদিন ধরে চলে আসা চিন্তাধারার চাপে পড়ে, যেটা করতে সত্যি ভালবাসে সেটা করতে পারে না। এই জন্যেই কখনই আপনাদের নতুন কিছু ভাবতে, নতুন কিছু করতে সঙ্কোচ করা উচিৎ নয়। ঠিক একই রকম ভাবে সন্ত রবিদাস আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে গেছেন। সেটি হল, ‘নিজের পায়ে দাঁড়াও’। আমরা যদি নিজেদের স্বপ্নকে সফল করতে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হই, তা একদমই উচিৎ নয়। যে যেরকম, সে সেরকম ভাবেই চলে এই কথাটির সঙ্গে সন্ত রবিদাস কখনই সহমত পোষণ করতেন না। আজকের যুবারাও এই মতে বিশ্বাসী নয়। আজ যখন আমি দেশের যুবাদের মধ্যে innovative spirit দেখি তখন আমার মনে হয় তাদের নিয়ে সন্ত রবিদাসের নিশ্চয় গর্ব হত।আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ ‘জাতীয় বিজ্ঞান দিবস’-ও বটে। আজকের দিনটি আমাদের মহান বৈজ্ঞানিক ডঃ সি ভি রমনের ‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কারকে উৎসর্গ করা হয়েছে। কেরল থেকে যোগেস্বরণ NamoApp-এ লিখেছেন যে রমন।

আরো পড়ুন…গরমে কীভাবে নেবেন ত্বকের যত্ন রইলো কিছু ঘরোয়া টিপস

 

.

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top