মালদা – একসময় তিনি ছিলেন হিন্দু মহাসভার নেতা। স্বাধীনতার সময় মালদহকে ভারতের মানচিত্রে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেই শিবেন্দুশেখর রায়ের ছবিই এদিন মালদহের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উপহার দেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও উঠে আসে শিবেন্দুশেখর রায়ের অবদান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের বাবা। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাবার নাম উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ ও গর্বিত সাংসদ।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে শনিবার মালদহে জনসভা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সভার শুরুতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ বঙ্গ বিজেপির নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে একটি ছবি উপহার দেন। ছবিটি ছিল শিবেন্দুশেখর রায়ের। নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই এই নাম ও ছবি অপরিচিত। ফলে তৃণমূল সাংসদের বাবার ছবি বিজেপির তরফে উপহার দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়।
ইতিহাস অনুযায়ী, স্বাধীনতার আগে মালদহের বিশিষ্ট আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন শিবেন্দুশেখর রায়। পাশাপাশি তিনি মালদহ জেলা হিন্দু মহাসভার সম্পাদক ছিলেন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় মুসলিম লিগ মালদহকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলে। সেই সংকটময় পরিস্থিতিতে মালদহকে ভারতের অংশ হিসেবে রাখার জন্য সক্রিয় ভূমিকা নেন শিবেন্দুশেখর রায়।
মালদহের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আমি সর্বপ্রথম মালদহের মহান সুপুত্র শিবেন্দুশেখর রায়কে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই। যাঁর প্রচেষ্টায় মালদহের পরিচয় আজও অটুট রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীর মুখে বাবার অবদানের কথা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সুখেন্দুশেখর রায়।
সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, তাঁর বাবা ৭৮ বছর আগে মালদহের জন্য যে ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা আজ অনেকটাই বিস্মৃত। শুধু বাংলা নয়, মালদহের বর্তমান প্রজন্মও সেই ইতিহাস জানে না। এত বছর পর দেশের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সেই অবদান স্মরণ করিয়ে দিলেন, তাতে তাঁদের পরিবার গর্বিত বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দেশভাগের সময় মালদহকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছিল। সেই আশঙ্কা ঠেকাতেই শিবেন্দুশেখর রায় উদ্যোগী হন। মালদহের ইতিহাস, জনবিন্যাস ও ভৌগোলিক বাস্তবতা যুক্তি সহ তুলে ধরতে তিনি বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের কাছে আবেদন জানানোর জন্য ব্যারিস্টার এনসি চট্টোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
সাংসদের কথায়, প্রথমে ব্যারিস্টার এনসি চট্টোপাধ্যায় মালদহ নিয়ে বিশেষ সাহায্য করতে পারবেন না বলে জানালেও, পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বদলায়। শ্যামাপ্রসাদ নিজে কথা বলার পর শিবেন্দুশেখর রায়ের যুক্তিগুলি বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের সামনে তুলে ধরা হয়। এর ফলেই মালদহ ভারতের অংশ হিসেবেই থেকে যায় বলে জানান সুখেন্দুশেখর রায়।




















