মালদা – মালদহের কালিয়াচক ও Mothabari এলাকায় অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনার তদন্তভার নিতে চলেছে Central Bureau of Investigation। বৃহস্পতিবার সিবিআই দপ্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও হয়েছে, যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করা হয়নি। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের লিখিত নির্দেশ পাওয়ার পরই এফআইআর করে তদন্ত শুরু করবে সিবিআই।
এদিকে Election Commission of India বাকি সন্দেহভাজনদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এদিন কমিশনের আধিকারিকরা রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, মুখ্য সচিব, ডিজিপি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), Kolkata Police-এর নগরপাল এবং জেলার পুলিশ সুপাররা।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা ও জেলা পুলিশ সুপারের দেরিতে পৌঁছনো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। এরই মধ্যে কড়া অবস্থান নিয়েছে Supreme Court of India। আদালত জানিয়ে দেয়, এই ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা National Investigation Agency-এর মাধ্যমে করানো হবে। পরবর্তীতে স্পষ্ট হয়, সিবিআই-ই এই মামলার তদন্ত করবে।
বুধবার থেকে এসআইআর ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহ। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। উত্তেজনার মাঝে বিচারক ও জুডিশিয়াল অফিসাররা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়ে শীর্ষ আদালত রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদের শোকজ করেছে। মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি Surya Kant-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার উপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে।
উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই মালদহে পৌঁছন Mamata Banerjee। মুর্শিদাবাদে সভা সেরে বৈষ্ণবনগরে গিয়ে তিনি বলেন, এই অশান্তি কোনওভাবেই দলের পরিকল্পিত নয়। একইসঙ্গে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং স্পষ্ট করেন, তৃণমূল কংগ্রেস শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ে বিশ্বাসী, দাঙ্গায় নয়।
সব মিলিয়ে মালদহের পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, তবে সিবিআই তদন্ত শুরু হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।




















