মালদহে ট্রাইব্যুনালে তালা, সারাদিন অপেক্ষা করেও বিফল আবেদনকারীরা

মালদহে ট্রাইব্যুনালে তালা, সারাদিন অপেক্ষা করেও বিফল আবেদনকারীরা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


মালদা – বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি অস্থায়ী প্যান্ডেল, ভিতরে সাজানো চেয়ার-টেবিল ও একাধিক কাউন্টার—সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও দেখা মেলেনি কোনও কর্মী বা আধিকারিকের। ফলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে এসে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বহু মানুষকে। বুধবার মালদহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আবেদনকারীরা।
এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ইতিমধ্যেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালগুলিতে মূলত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনা হবে। সেই কারণে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের মধ্যে অনেকেই আবেদন জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ট্রাইব্যুনালে এসে সারাদিন কাটিয়েও কোনও কাজ না হওয়ায় চরম হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাঁদের। অভিযোগ, এদিন সেখানে কোনও কর্মী বা আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন না, এমনকি আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না বা কবে থেকে শুরু হবে—তা নিয়েও কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি। কোথাও কোনও নোটিস বা বিজ্ঞপ্তিও টাঙানো ছিল না বলে দাবি।
সদ্য প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন—এমনটাই জানানো হয়েছিল। তালিকা প্রকাশের পরদিন থেকেই অফলাইনে জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে আবেদন করা যাবে বলেও দাবি করা হয়। কিন্তু বাস্তবে মালদহে এদিনের পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত হয়ে পড়েন আবেদনকারীরা। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এসে সারাদিন অপেক্ষা করেও কোনও প্রশাসনিক সাহায্য না পেয়ে হয়রানির শিকার হন।
প্যান্ডেলের বাইরে কয়েকজন পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকলেও তাঁরাও জানাতে পারেননি কেন কোনও আধিকারিক উপস্থিত নেই বা কবে আসবেন। অথচ ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও মানুষজন এসেছিলেন আশঙ্কা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে। কিন্তু দিনের শেষে তাঁদের ফিরতে হয়েছে কোনও আবেদন জমা না দিয়েই।
জানা গিয়েছে, মালদহ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম বাতিল হয়েছে সুজাপুর, হরিশ্চন্দ্রপুর এবং চাঁচল বিধানসভা এলাকায়। সাধারণ মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে আইনজীবীরাও এগিয়ে এসেছিলেন। এক-একজন আইনজীবী ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষের পক্ষ থেকে আবেদন জানানোর উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরাও বিফল হয়ে ফিরে যান। পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকজন আইনজীবী প্রশাসনিক ভবনে নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, সেখান থেকেও কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। পরে জেলা প্রশাসনের নেজারত বিভাগেও যান তাঁরা, কিন্তু সেখান থেকেও স্পষ্ট কোনও দিশা না পাওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top