উত্তর 24 পরগণা – মিমি চক্রবর্তীকেও মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া, হেনস্তা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের বেডেও স্বমেজাজে রয়েছেন তনয় শাস্ত্রী। এ সময় তিনি মিমিকে হুঙ্কারও দেন এবং বলছেন, তাঁকে ছাড়বেন না। তবে মিমি এই হুমকিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। প্রাক্তন সাংসদ-অভিনেত্রী বলেন, “একটা লোককে যতটা ফুটেজ দেওয়া উচিত নয়, ততটা আমরা ইতিমধ্যেই দিয়ে ফেলেছি।”
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত রবিবার, বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে। সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানের সময় অনুযায়ী রাত সাড়ে ১০টায় মিমির অনুষ্ঠানের সূচনা হওয়ার কথা থাকলেও তিনি এক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছান। মঞ্চে উঠার সময় পৌনে ১২টা বেজে যায়। প্রশাসনের দেওয়া অনুমতি অনুযায়ী রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার কথা ছিল। এই কারণে মিমিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে ক্লাব সদস্যদের অভিযোগ।
বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করে মিমি জানান, অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাবের কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী মঞ্চে উঠে তাঁর গান থামিয়ে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন, যা তাঁকে অপমানিত করেছে। ক্লাব কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাস জানান, “মিমি চক্রবর্তীকেও কোনও অসম্মান করা হয়নি। তিনি এক ঘণ্টা দেরি করে রাত সাড়ে ১১টার পর মঞ্চে ওঠেন। অনুষ্ঠানকে সময়মতো শেষ করতে প্রশাসনের নিয়ম এবং শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে রাত ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। ওঁর অনুষ্ঠান চলাকালীন অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা তাঁকে অসম্মানিত মনে হতে পারে, কিন্তু তাঁকে সসম্মানেই বিদায় দেওয়া হয়েছে।”
মিমির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তিনদিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তনয় শাস্ত্রীর বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে বনগাঁ থানায় নিয়ে আসে। গ্রেপ্তারের সময় মহিলারা বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের সঙ্গে ঠেলাঠেলি করার পর তাঁকে বাইরে নিয়ে এসে আটক করা হয়। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তনয় শাস্ত্রীসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




















