কলকাতা
সোশ্যাল মিডিয়ার মিম, রিল আর ব্যঙ্গাত্মক পোস্টই নাকি নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষা বদলে দিচ্ছে। কলকাতায় এসে এমনই দাবি করলেন AISA-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং SIR নিয়ে দিল্লিতে চলা আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মজার ছলে তৈরি করা মিমগুলির পিছনেও রয়েছে গভীর রাজনৈতিক বার্তা। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ক্রমশ কমছে।
নেহার বক্তব্য, বিজেপি ও আরএসএসের মতো শক্তি ভয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে—এমনটাই তাঁর অভিযোগ। কিন্তু দিল্লির আন্দোলনে যে ভাবে মিম, ব্যঙ্গ এবং তির্যক স্লোগান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা তাঁর মতে প্রতিবাদের ধরনকেই বদলে দিয়েছে। নেহা দাবি করেন, তরুণ প্রজন্মের একটা অংশ এখন আর আগের মতো ভয় পাচ্ছে না এবং সেই পরিবর্তনই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে গত কয়েক দিনে একাধিক দফায় বিক্ষোভ হয়েছে। AISA-সহ বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের আন্দোলনে SIR নিয়ে আপত্তি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আন্দোলনের সময় নেহা বোরা-সহ একাধিক বিক্ষোভকারীকে দিল্লি পুলিশ আটকও করেছে। নেহা পরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
এই আন্দোলনের পরবর্তী পর্বকেই আন্দোলনকারীদের একাংশ ‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামে তুলে ধরছে। প্রচলিত ধর্না বা স্লোগানের পাশাপাশি মিম, ব্যঙ্গ, পোশাক এবং স্ট্রিট পারফরম্যান্সের মতো নানা মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই নতুন ধরনের প্রতিবাদে তরুণদের অংশগ্রহণও বাড়ছে।
নেহা বোরার বক্তব্যে শুধু জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নয়, গোটা নির্বাচন ব্যবস্থায় জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। কলকাতায় দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি SIR বন্ধ করা এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন।
তবে ‘ভয় কেটে যাওয়া’ বা ‘শাসক-বিদায়ের কাউন্টডাউন’ শুরু হওয়ার মতো মন্তব্যগুলি নেহা বোরার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও দাবি। এগুলিকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়, তাঁর বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের তরফে SIR নিয়ে ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। ফলে যন্তর মন্তরের এই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।




















