
নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা ,১৩ ই এপ্রিল ; দীর্ঘদিনের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে ভারতের হিন্দু উদ্বাস্তুরা নতুন দিসার দিকে এগোচ্ছে। দেশের ৫কোটি হিন্দু উদ্বাস্তু এবার বিজেপির পথে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দু কোটি উনোসত্তর লক্ষ বাঙালি উদবাস্তু মানুষ নিজেদের স্থায়িত্বের দিকে এগোচ্ছে, এমনটাই জানালেন নিখিল ভারত বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি সুবোধ বিশ্বাস। তিনি বলেন দীর্ঘ আন্দোলনের পথে হেটে রীতিমত জেলে গিয়ে নির্দিষ্ট দিশায় এগানো গিয়েছে। হিন্দু উদ্বাস্তুদের এ দশার জন্য তিনি সরাসরি পূর্বতন কংগ্রেস সরকারকে দায়ী করেন। এ বিষয়ে তিনি কটাক্ষ করে বলেন কংগ্রেসের পাপের ফল এই উদ্বাস্তু। তবে ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং সঙ্গে প্রথমবার তার কথা হয়েছে বলে তিনি জানান। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই আন্দোলনকে সমর্থন করে বলেছিলেন ‘উদ্বাস্তু দের নাগরিকত্ব দেওয়ার পক্ষে।’ শনিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন দেশ জুড়ে নাগরিকত্ব বিল নিয়ে দ্বিচারিতা চলছে। সব দলই নাগরিকত্ব বিলের মৌখিক সমর্থন করলেও রাজ্যসভায় তা পাস হতে দেয়নি। এমনকি রাজনৈতিক ইশতেহারেও নাগরিকত্ব বিল নিয়ে কোন খসড়া প্রকাশ করেন কোন দলই। একমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের ইশতেহারে নাগরিকত্ব খসড়া প্রকাশ করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন ২০১৯ এ তারা সরকার গড়লে এই বিলের নিষ্পত্তি হবে। এ বিষয়ে উদ্বাস্তু সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন হিন্দু উদ্বাস্তুদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে বিজেপির হাত শক্ত করতে বলেন। তিনি আশাবাদী কেন্দ্রে নতুন সরকার এলে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা এই বিল পাস করাবেন। ইতিমধ্যেই তারা বিলটি লোকসভায় পাস করান। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে রাজ্যসভায় তা পাস করানো যায়নি। ২০১৬ নাগরিকত্ব বিল সংশোধন উদ্বাস্তুদের কাছে মৃত সঞ্জীবনী এর মত। এই বিল পাস হলে উদ্বাস্তুরা সাংবিধানিক অধিকার পাবে। এই বিল পাস হলে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী নিষ্পাপ দুধের শিশু মহিলা বৃদ্ধ অমানবিক নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে। আইনের বেড়াজালে আটকে প্রতিনিয়ত উদ্বাস্তুরা শোষিত নির্যাতিত হচ্ছেন। এই বিল পাস হলে সেসব আইন আক্ষরিক অর্থে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।


















