মুর্শিদাবাদে বিএলও-র রহস্যমৃত্যুতে নতুন মোড়, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল সমর্থক

মুর্শিদাবাদে বিএলও-র রহস্যমৃত্যুতে নতুন মোড়, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল সমর্থক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


মুর্শিদাবাদ – মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার অন্তর্গত এক বিএলও-র রহস্যমৃত্যু ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সোমবার তা একেবারে নতুন দিকে মোড় নিল। প্রথমে অভিযোগ ওঠে, এসআইআর-এর অতিরিক্ত কাজের চাপেই আত্মঘাতী হয়েছেন ভগবানগোলা ২ নম্বর ব্লকের আখরিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা বিএলও হামিমুল ইসলাম। এই অভিযোগকে সামনে রেখে তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে মিছিলও করেন। তবে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামিমুল ইসলামের কাছ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা বুলেট খান প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বুলেট খান এলাকায় তৃণমূলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা গেছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত চাইছিলেন হামিমুল, কিন্তু বুলেট খান সেই টাকা না দিয়ে উলটে তাঁকে খুনের হুমকি দেন। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই হামিমুল ইসলাম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার রানিতলা থানার বাসিন্দা বুলেট খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে লালবাগ মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত এগোচ্ছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে গ্রামের একটি স্কুলের ভিতর থেকে হামিমুল ইসলামের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়ায়। শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। পুলিশের এফআইআরে বুলেট খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযুক্ত হিসেবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র আকার নিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাঁদের দাবি, সত্য চাপা দিতেই প্রথমে এসআইআর-এর চাপের কথা সামনে আনা হয়েছিল। অন্যদিকে বিএলও অধিকার মঞ্চের আহ্বায়ক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একজন কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে এভাবে রাজনৈতিক খেলাধুলা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিএলও-দের অধিকার রক্ষার লড়াই চলবে বলেও তিনি জানান।
বিএলও হামিমুল ইসলামের মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক যত ঘনীভূত হচ্ছে, ততই তদন্তের চাপ বাড়ছে পুলিশের ওপর। এই মৃত্যুর নেপথ্যে আর কোনও কারণ বা আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top