মৃত প্রফুল্লের দেহেও নির্যাতন চালায় ইংরেজদের ‘ভৃত্য’ পুলিশের দল, আজও শুনলে শিউরে উঠবেন

মৃত প্রফুল্লের দেহেও নির্যাতন চালায় ইংরেজদের ‘ভৃত্য’ পুলিশের দল, আজও শুনলে শিউরে উঠবেন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

১০ ডিসেম্বর, দিনটা ছিল ২ মে ১৯০৮। সেদিন এক বাঙালির কারণেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল এক বাঙালি বিপ্লবী। ১ মে তারিখে ধরা পড়েন ক্ষুদিরাম বসু।সেই খবর সর্বত্র ছড়িয়েও গিয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যা করতে গিয়ে ভুল করে মিস ও মিসেস কেনেডিকে বোমা ছুঁড়ে হত্যা করেন দুই বাঙালি। তার মধ্যে এক বাঙালি অর্থাৎ ক্ষুদিরাম ধরা পরে যায়।কিন্তু আরেক বাঙালি নিজেকে ধরা দেয়নি। ইংরেজদের হাতে নিজেকে তুলে না দিতে চাওয়ায় শেষমেশ আত্মহত্যা করেন প্রফুল্ল চাকী।

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ বিরোধী ও স্বাধীনতা আন্দোলনোর অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ও অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী ছিলেন প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরাম বসু। বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকীর জন্ম ১৮৮৮ সালে ১০ ই ডিসেম্বর অর্থাৎ আজকের দিনে।পূর্ববঙ্গের বগুড়া জেলায় বিহার গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ১৯০৩ সালে রংপুরে জেলা স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি যেখানে পূর্ববঙ্গ সরকারের কার্লাইসার্কুলার বিরুদ্ধে ছাএ আন্দোলন অংশগ্রহণ করায় স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয় প্রফুল্লকে। এরপর তিনি রংপুরে কৈলাস রঞ্জন স্কুলে ভর্তি হন। এখানে পড়ার সময় বিভিন্ন বিপ্লবীদের সাথে যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটে। এবং ধীরে ধীরে তিনি বিপ্লবী ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হন। প্রফুল্ল ও ক্ষুদিরাম মিলে ম্যাজিস্ট্রেট কিংফোর্ডকে মারার প্ল্যান করেন।তবে এর পিছনে একটা বড় কারণ ছিল।

সুশীল সেন নামে ১৩ বছরে বালক ঘুসি মেরে পুলিশ সাজের্ন্ট কে নাক ফাটিয়ে দেয়। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতা মামলা শুরু করে ব্রিটিশ সরকার। এই ছোট্ট অপরাধে বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট কিংফোর্ড বিচারের সুশীল সেনকে ১৫ ঘা বেত্রাঘাত মারার হুকুম দেন। বেত্রাঘাতের ফলে বালক সুশীল সেন রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পরে থাকেন।এরূপ ঘটনায় সকলে গর্জে ওঠে, বিপ্লবীদের মনে প্রতিশোধের আগুন জেগে ওঠে।আর সেই প্রতিশোধ নিতেই কিংফোর্ড-কে হত্যা করার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরাম বসুকে। কিন্তু ঘটনার দিন হয়ে যায় ভুল।কিংসফোর্ডকে হত্যা করতে গিয়ে ভুল করে মিস ও মিসেস কেনেডিকে বোমা ছুঁড়ে হত্যা করেন তাঁরা। তারপরই গ্রেফতার হয় ক্ষুদিরাম ও পালিয়ে যায় প্রফুল।

সেখান থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন ত্রিগুণাচরণ ঘোষের বাড়িতে। রাতে ত্রিগুণাবাবুই প্রফুল্ল’কে তুলে দিলেন মোকামাঘাট গামী ট্রেনে। আর সেই ট্রেনেই উপস্থিত ছিলেন পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রফুল্লের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয় এবং তাতেই সন্দেহ হয়।পরের দিন অর্থাৎ ২ মে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার আদেশ পান নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রফুল্লকে সকালে গ্রেফতার করতে গেলে প্রফুল অবাক হয়ে যান, বলেন, ‘তুমি বাঙালি হয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করছ!’ তারপরই শোনা যায় প্রফুল্ল মারা গেছে। সেদিনের বাকি ঘটনা শোনা যায় ক্ষুদিরাম বসু’র মামলা চলাকালীন, প্রফুল্ল সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ানে।তিনি বলেন, প্রফুল কে ধরতে গেলে তিনি রিভলভার থেকে কনস্টেবলদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রথমে, তারপর পালানোর রাস্তা না দেখে নিজের উপর গুলি চালায় প্রফুল্ল।একটি গুলি তাঁর বুক ভেদ করে যায়, অন্যটি মাথার খুলি।
তারপরও থামেনি পুলিশের নির্যাতন। আজও যে কথা শুনে সকলে শিউরে ওঠে। শনাক্তকরণের জন্য মৃত প্রফুল্লর মাথা কেটে নেওয়া হয় ও দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া হয় ধড়।তারপর তা কেরোসিনের টিনে ভরে, স্পিরিটে চুবিয়ে পাঠানো হয় কলকাতায়।সেখানে শনাক্ত হওয়ার পর মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয় তাঁর মাথাটি।আর বাকি দেহ ডোমের হাত দিয়ে শ্মশানে ফেলে আসা হয়, এটা ভেবে যে শিয়াল বা কুকুর তা খেয়ে নেবে।
এই নির্মমতার পর গর্জে ওঠে সকল বিপ্লবী, কয়েকমাস পরেই, ৯ নভেম্বর রাত্রে হত্যা করা হয় নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে।প্রসঙ্গত, প্রফুল্ল’ই হলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহীদ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top