রাজ্য – ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক স্লোগান তুলে চর্চায় Anubrata Mandal। ‘মেরা জবান মেরা শাসন’— এই বার্তা দিয়েই রবিবার নলহাটি বিধানসভার অন্তর্গত নলহাটি হরি প্রসাদ মাঠে তৃণমূলের সভা থেকে বক্তব্য রাখেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, নির্বাচন কমিশন যদি তাঁকে নজরবন্দি করে, তাহলে কী করবেন? উত্তরে অনুব্রত বলেন, “সুস্থ ভাবে ভোট করব, সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখব। যেমন ফুল সাজিয়ে রাখা হয়, সেইভাবে সাজিয়ে রাখব। মেরা জবান মেরা শাসন হ্যায়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
সভা মঞ্চ থেকেই নলহাটি বিধানসভায় জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন তিনি। অনুব্রতের দাবি, ৪৫ হাজার ভোটে এই কেন্দ্র জিতবে তৃণমূল। পাশাপাশি তিনি বলেন, তাঁর ভবিষ্যৎবাণী কখনও বিফল হয় না। রাজ্যে ২৩০ থেকে ২৩৫টি আসন পেয়ে Mamata Banerjee ফের তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে অনুব্রত বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ করে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দু’কোটি মুসলমানের নাম বাদ দেওয়ার টার্গেট ছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। গোটা দেশের মানুষ মমতার লড়াইকে সমর্থন জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কটাক্ষ করে বলেন, “ছাগলে কী না খায়, পাগলে কী না বলে।” রাজ্যের মুসলমানদের পক্ষে সওয়াল করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁরা কী অপরাধ করেছেন যে তাঁদের তাড়ানোর কথা বলা হবে?
তিনি আরও বলেন, এই রাজ্যে বসবাসকারী মুসলমানদের পূর্বপুরুষরাও এখানেই জন্মেছেন। সভায় উপস্থিত বহু মহিলার পিতৃভিটে বা শ্বশুরবাড়ির ভিটে বাংলাতেই রয়েছে। বিজেপি রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে সরব হলেও, একটিও রোহিঙ্গা খুঁজে বের করতে পেরেছে কি না— সেই প্রশ্নও তোলেন অনুব্রত।
এসআইআর শুনানির পর যেসব ওয়ার্ডে নাম বাদ গিয়েছে, সেখানে অনেকেই মৃত অথবা অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এগুলো প্রকৃত অর্থে নাম বাদ নয়। এরপরেও যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের বিষয়টি বিচারকরা দেখছেন। অনুব্রতের দাবি, কারও নাম সহজে বাদ যাবে না। নাম বাদ দেওয়া এত সহজ বিষয় নয়, আগে আইন জানতে হবে— এমনটাই বার্তা দেন তিনি।


















