বিনোদন – লিওনেল মেসির সঙ্গে তোলা একটি ছবি ঘিরে শনিবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া বিতর্ক, ট্রোল ও কটূক্তির মাঝেই অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। কেন তিনি মেসির সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন, কেন যুবভারতী স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন এবং তিনদিন পরে কেন এই বিষয়ে মুখ খুললেন— সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন প্রায় সাত মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায়।
ভিডিয়ো বার্তায় শুভশ্রী স্পষ্ট করে জানান, ওই অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত ছিলেন। আয়োজকদের তরফে আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি একটি পাঁচতারা হোটেলে যান। সেখানে শিল্পপতি, স্পনসর সংস্থার প্রতিনিধিরা, সাংবাদিকরা সহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেসি সেখানে উপস্থিত হয়ে সকলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ছবি তুলবেন— সেই অনুযায়ীই তাঁর সঙ্গে ছবি তোলেন শুভশ্রী।
অভিনেত্রীর কথায়, হোটেল থেকে বেরোনোর সময় আয়োজকদের পিআর টিম তাঁকে অনুরোধ করে যুবভারতী স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য। কারণ, সেখানে তাঁর উপস্থিতি থাকলে ব্যবস্থাপনার কাজে সুবিধা হবে বলে জানানো হয়। সেই অনুরোধ মেনেই তিনি যুবভারতীতে যান। কেন টলিউড থেকে তাঁকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল— সেই প্রশ্নের উত্তর আয়োজকরাই দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন শুভশ্রী।
যুবভারতীতে পৌঁছে তাঁদের জন্য আলাদা একটি টেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। সেখানে আরও অনেকেই ছিলেন এবং সবাই অনুষ্ঠান শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন। সেই সময় তাঁর পিআর টিম ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করার চেষ্টা করলেও স্টেডিয়ামে জ্যামার থাকায় তা সঙ্গে সঙ্গে পোস্ট হয়নি।
শুভশ্রী জানান, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মেসি মাঠে ঢোকেন। এরপরই ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি নিজেও মাঠ থেকে মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর তাঁর শুটিং থাকায় তিনি স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
ছবি পোস্ট নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ছবি দেরিতে পোস্ট হয়। তিনি শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি তখন বুঝতে পারেননি। পরে জানতে পারেন, সেই ছবি ঘিরেই তাঁকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং ব্যাপকভাবে তা ছড়িয়ে পড়েছে।
ট্রোলিং নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভশ্রী বলেন, তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন মেসি মাঠে ঢোকার সময় তিনি একাই তাঁকে ঘিরে ছিলেন বা সেলফি তুলছিলেন। বাস্তবে তিনি কোথায় ছিলেন, তা সহজেই বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, আমন্ত্রিত হয়ে ছবি তোলা কি অপরাধ? ভুল সময়ে ছবি পোস্ট হওয়া তাঁর দোষ হতে পারে, তবে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করেননি।
ভিডিয়ো বার্তায় শুভশ্রী আরও বলেন, সাধারণ দর্শকদের হতাশা তিনি বোঝেন। বহু মানুষ কষ্টের টাকা দিয়ে টিকিট কেটে মেসিকে দেখতে পারেননি। কিন্তু সেই ক্ষোভ তাঁর উপর উগরে দেওয়া অন্যায়। তিনি একজন অভিনেত্রী এবং একজন মহিলা বলেই কি তাঁকে এভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে— সেই প্রশ্নও তোলেন শুভশ্রী। একই ধরনের অনুষ্ঠানে অন্যান্য শহর ও বলিউডের তারকারা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের নিয়ে এমন বিতর্ক হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিজের সন্তানদের নিয়ে কটূক্তি ও হুমকি প্রসঙ্গে। শুভশ্রী জানান, তাঁকে ট্রোল করা হলেও তিনি তা ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করেননি। কিন্তু তাঁর দুই ছোট সন্তানকে ঘিরে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমন মেসেজ ও মেল তাঁর কাছে রয়েছে। একজন মা হিসেবে সেটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট জানান তিনি।
ভিডিয়োর শেষে শুভশ্রী বলেন, তিনি কোনও রাজনীতিক নন, তিনি একজন অভিনেত্রী। মেসিকে দেখার ক্ষেত্রে তিনি কারও বাধা হয়ে দাঁড়াননি। সমালোচনা হলে হোক, কিন্তু দয়া করে শিশুদের টেনে আনা বন্ধ করা হোক— এই আবেদন জানিয়েই বার্তা শেষ করেন তিনি।




















