বিনোদন – লিওনেল মেসিকে একঝলক দেখতে না পাওয়ার আক্ষেপে শনিবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও ফুটবলের ভগবানকে সামনে থেকে দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন শহরের একাংশ ফুটবলপ্রেমী। মাঠে মেসির উপস্থিতি থাকলেও তাঁকে ঘিরে ছিলেন বিভিন্ন মহলের বিশিষ্টজনেরা, ফলে সাধারণ দর্শকদের চোখের আড়ালেই থেকে যান আর্জেন্টাইন তারকা।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি ছবি। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করা সেই ছবিতে দেখা যায়, মেসির সঙ্গে পোজ দিচ্ছেন শুভশ্রী, পাশে তাঁর আপ্ত-সহায়কও। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ঘিরে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা, ট্রোল ও মিমের বন্যা। এখনও পর্যন্ত সেই নিন্দার ঝড় থামেনি।
এই আবহে স্ত্রী শুভশ্রীর পাশে দাঁড়িয়ে মুখ খুললেন তাঁর স্বামী, তারকা পরিচালক ও সাংসদ রাজ চক্রবর্তী। রবিবার দুপুরে নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি যুবভারতীর ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। রাজ লেখেন, শনিবারের অরাজকতা অনভিপ্রেত এবং তা ফুটবল ও ফুটবলপ্রেমী বাঙালির অপমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচে আগেও এমন অভিজ্ঞতা থাকার পর কেন এত বড় ইভেন্টে কাঠামোগত সচেতনতায় ঘাটতি রয়ে গেল। একইসঙ্গে দোষীদের শাস্তির দাবিও তোলেন তিনি।
রাজের পোস্টে স্পষ্টভাবে উঠে আসে ফুটবলের প্রতি বাঙালির আবেগ। তাঁর বক্তব্য, এই আবেগকে কোনওভাবেই তুচ্ছ করা যায় না। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন নারী বা বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত বলেই কাউকে লক্ষ্য করে যা খুশি বলা যায় না। শুভশ্রীকে ঘিরে চলা ট্রোল ও ব্যক্তিগত আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেন তিনি।
রাজ লেখেন, হাজার হাজার মানুষ বহুমূল্য টিকিট কেটে মেসিকে দেখতে এসেছিলেন, অথচ একঝলকও দেখতে না পেলে ক্ষোভ হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু না জেনে একজন অভিনেত্রীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনুচিত। তাঁর কথায়, শুভশ্রী শুধু অভিনেত্রী নন—তিনি মা, স্ত্রী, বন্ধু এবং সর্বোপরি একজন মানুষ ও একজন ফুটবলপ্রেমী। অভিনেত্রী বলেই যে তিনি মেসির ভক্ত হতে পারবেন না, এমন ধারণাকে তিনি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
একইসঙ্গে রাজ অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা ও মিডিয়ার একাংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুভশ্রীকে টার্গেট করে বিকল্প ন্যারেটিভ তৈরি করছেন। পরিচিত মুখ বলেই তাঁর শারীরিক গঠন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবার ও সন্তান পর্যন্ত টেনে আনা হচ্ছে সমালোচনায়। প্রশ্ন তোলা হয়—তিনি নারী বলেই কি এই আক্রমণ? যদি কোনও বলিউড তারকা সেখানে থাকতেন, তবে কি একই প্রতিক্রিয়া হতো?
রাজের এই পোস্টের পরেও অবশ্য বিতর্ক থামেনি। উল্টে সোশাল মিডিয়ায় আরও এক দফা ক্ষোভ উগরে দেন নেটিজেনদের একাংশ। বহু মানুষ আবারও তুলে ধরেন হাজার হাজার টাকা খরচ করেও মেসিকে না দেখতে পাওয়ার হতাশা। কেউ লেখেন, “জনতার টাকায় আপনারা ফুটেজ খাচ্ছেন”, কেউ আবার শুভশ্রীকে ‘সময়জ্ঞান’ শেখানোর চেষ্টা করেন। অনেকের প্রশ্ন, যুবভারতী যখন রণক্ষেত্র, তখন মেসির সঙ্গে ছবি পোস্ট করে অনুরাগীদের দুঃখ বাড়ানো কি ঠিক ছিল?
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন। আদালত তাঁকে আগামী চৌদ্দ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে মেসিকে দেখতে না পাওয়ার ক্ষোভ, তার সঙ্গে তারকাদের ভূমিকা ও সোশাল মিডিয়ার আক্রমণ—সব মিলিয়ে যুবভারতীর সেই শনিবারের রেশ এখনও কাটেনি।




















