দেশ – মেক ইন ইন্ডিয়া, বিকশিত ভারত বা ডিজিটাল ভারতের প্রচারের আড়ালে মোদির ভারতে সামাজিক সুরক্ষা আদৌ কতটা মজবুত—তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য সামনে আসতেই পেনশন ও বীমা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ব্যাঙ্কের দাবি, কেন্দ্রের গালভরা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবের বিস্তর ফারাক রয়ে গিয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষকে বীমার আওতায় আনার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বীমা পরিষেবায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের হার ক্রমশ কমছে। পেনশনের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। মূল্যবৃদ্ধির চাপে পেনশন ব্যবস্থা কার্যত ধুঁকছে বলে অভিযোগ।
ইন্সুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার তথ্য উদ্ধৃত করে ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের অর্ধবার্ষিকে দেশে বীমা ক্রয়ের হার ছিল মাত্র ৩.৭ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের জিডিপি যদি ১০০ টাকা হয়, তাহলে বীমা প্রিমিয়াম বাবদ খরচ হচ্ছে মাত্র তিন টাকা সত্তর পয়সা। এই হার ক্রমাগত কমতে থাকায় বীমা পরিষেবায় ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সকলকে বীমার আওতায় আনা যে সহজ নয়, তা স্পষ্ট হচ্ছে।
ব্যাঙ্কের অভিযোগ, বহু বীমা সংস্থা গ্রাহকদের কাছ থেকে বছরের পর বছর প্রিমিয়ামের টাকা নিলেও দাবি মেটাতে গড়িমসি করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা নিয়ে অনাস্থা বাড়ছে এবং নতুন করে অনেকেই বীমা করাতে আগ্রহী হচ্ছেন না। বিপর্যয় বা ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সংক্রান্ত বিমুখতাও ক্রমশ বাড়ছে।
পেনশন ক্ষেত্রেও একই রকম সমস্যার ছবি সামনে এসেছে। প্রায় ২৫ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে পেনশনের আওতায় আনতে ইউনিফাইড পেনশন স্কিম চালু করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু সেখানে এখনও পর্যন্ত নাম নথিভুক্ত করেছেন মাত্র এক লক্ষ কুড়ি হাজার কর্মী, যা মোট কর্মীর প্রায় ৫ শতাংশ। কম বয়সীদের পেনশন প্রকল্পে আগ্রহী করতে চালু হওয়া ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমেও এক বছরে নতুন নথিভুক্তির সংখ্যা মাত্র এক লক্ষ তিন হাজার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা ও পেনশন সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান আর্থিক সুরক্ষা। সেই ব্যবস্থায় যদি স্থিতিশীলতা ও আস্থা না থাকে, তাহলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এগোতে ভয় পাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের তথ্য সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।




















