রাজ্য – বছরের শুরু থেকেই রণংদেহী মেজাজে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘রণসংকল্প সভা’ কর্মসূচি নিয়ে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। আগামী ৬ জানুয়ারি রামপুরহাটে তাঁর সভা। সেই দিনই বাংলাদেশ থেকে ফেরা অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবির সঙ্গে তাঁর দেখা হতে পারে বলে তৃণমূল সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি ও তাঁর পরিবারকে দিল্লি পুলিশ বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সোনালি ভারতে ফিরে আসেন। জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগের দিন অর্থাৎ ৫ জানুয়ারি সোনালি বিবিকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। ৬ জানুয়ারি তাঁর সন্তান প্রসব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, সন্তান কোলে থাকা সোনালি বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও চূড়ান্ত সফরসূচি তাঁদের হাতে এসে পৌঁছয়নি।
সোনালি বিবি নিজে জানিয়েছেন, “আমার স্বামী-সহ চারজন এখনও কেন্দ্রের চক্রান্তে বাংলাদেশে আটক রয়েছেন। অভিষেকবাবু এলে তাঁদের ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন জানাব।” ৬ জানুয়ারি রামপুরহাটের বিনোদপুরের মাঠে জনসভা করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। শুক্রবার সেই মাঠ পরিদর্শন করেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা।
এর মধ্যেই আজ, শনিবার উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝেরডাবড়ি চা-বাগানে প্রায় তিন হাজার চা-শ্রমিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। তৃণমূলের দাবি, চা-শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার। তাঁদের সমস্যার কথা সরাসরি শুনে সমাধানের পথ খোঁজাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
আলিপুরদুয়ারের সভায় চা-বাগান ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পিএফ-সহ শ্রমিকদের একাধিক দাবি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। নির্বাচনের আগেই শ্রমিকদের স্বার্থে পাশে দাঁড়াতে তৃণমূল উদ্যোগী হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। চা-শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।




















