উত্তর 24 পরগণা – কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের স্মৃতি ফের উসকে দিল উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি। বন্ধ ঘরের ভিতরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হল এক গৃহবধূর দেহ। পাশেই অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন তাঁর স্বামী, আর অন্য ঘরে ছিলেন তাঁদের প্রতিবন্ধী ছেলে। শুক্রবার রাতে এই ঘটনাকে ঘিরে নৈহাটিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক না কি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনাটি নৈহাটি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাস্ত্রী রোড এলাকার। মৃতার নাম তৃপ্তি নন্দী। তাঁর স্বামী গৌর নন্দী এবং তাঁদের এক প্রতিবন্ধী তরুণ ছেলে ওই বাড়িতেই থাকতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, বেশ কয়েক দিন ধরেই ওই পরিবারকে আর দেখা যাচ্ছিল না। এমনকি এসআইআরের কাজে আসা বিএলএ-রাও বাড়িতে এসে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ পেয়ে ফিরে যান বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার বেলা থেকেই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। কোথা থেকে এই পচা গন্ধ আসছে, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে প্রতিবেশীদের মনে। এরই মধ্যে সন্ধেবেলায় হাওড়া থেকে তৃপ্তি নন্দীর বোন নৈহাটিতে পৌঁছন। তিনি বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলে ভিতর থেকে কোনওমতে প্রতিবন্ধী তরুণটি তাঁর হাতে চাবি তুলে দেয়। বিষয়টি বুঝে তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন।
এরপরই প্রতিবেশীরা জড়ো হন বাড়ির সামনে এবং নৈহাটি থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িতে ঢুকতেই চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে আসে। খাটের উপর মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন তৃপ্তি নন্দী। দেহে পচন ধরে গিয়েছিল। একই ঘরের মধ্যেই অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন তাঁর স্বামী গৌর নন্দী। বাড়ির ভিতরেই ছিলেন তাঁদের প্রতিবন্ধী পুত্র।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অসুস্থ গৌর নন্দীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা।
ঘটনায় হতবাক গোটা এলাকা। নৈহাটি পুরসভার পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায় জানান, এই কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবারটির পাশে থাকার জন্য পুরসভার তরফে সব রকম সহযোগিতা করা হবে। নিঃশব্দে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুর ঘটনা ফের একবার শহুরে নিঃসঙ্গতার নির্মম ছবিই তুলে ধরল।




















