রাজ্য – তিন বছর পূর্তি উদযাপনের পরই নতুন বিতর্কে জড়াল রাজভবন। কার্যকালের চার বছরে পদার্পণের আগে মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজ্যের সমস্ত মন্ত্রী–বিধায়ককে শুভেচ্ছাপত্র পাঠান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কিন্তু সেই তালিকায় দু’টি চিঠি পৌঁছে যায় ভুল গন্তব্যে—একটি তেহট্টের প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহার নামে, অন্যটি আদালতের নির্দেশে সদ্য বিধায়কপদ খারিজ হওয়া মুকুল রায়ের ঠিকানায়। দু’জনই বর্তমানে বিধায়ক নন; একজন প্রয়াত, অন্যজন আইনত পদচ্যুত। ফলে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জলঘোলা।
প্রশ্ন উঠছে—বিধানসভার সদস্যদের বর্তমান অবস্থান যাচাই ছাড়াই কীভাবে রাজভবনের দফতর এমন চিঠি পাঠাল? তাপস সাহার মৃত্যুর ছ’মাস কেটে গিয়েছে। মুকুল রায়ের পদ খারিজ হয় এক সপ্তাহ আগেই। নিয়মিত সাংবিধানিক যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও এই ত্রুটি রাজভবনের তরফে কীভাবে হল তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছে বিধানসভার সচিবালয়ের একাংশ।
তৃণমূলেরও প্রশ্ন, রাজ্যের প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় পদে থাকা মুকুল রায়ের পরিস্থিতি যদি রাজভবনের অজানা থাকে, তাহলে এই কাজের দায়িত্বে কারা? তাপস সাহার মৃত্যুর পর শোকসভাও হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে চিঠি পাঠানোকে ‘অসাবধানতা নয়, বরং গুরুতর ত্রুটি’ বলেই ব্যাখ্যা করছে রাজনৈতিক মহল।
বিতর্ক তীব্র হলে রাজ্যপালের ওএসডি সন্দীপ রাজপুত জানান, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করে রাজ্যপালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে চিফ অফ স্টাফ এস. কে. পট্টনায়েকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
রাজভবন সূত্র জানাচ্ছে, খবর জানার পর ক্ষুব্ধ হয়েছেন রাজ্যপাল। মুর্শিদাবাদ সফর থেকে ফিরেই বিষয়টিতে জবাবদিহি চান। সিদ্ধান্ত হয়েছে—এখন থেকে রাজ্যপালের স্বাক্ষরযুক্ত কোনও চিঠি নির্দিষ্ট কমিটির অনুমোদন ছাড়া বাইরে যাবে না।




















