রাজ্য – West Bengal Assembly Elections 2026-এর আগে Rajya Sabha Elections 2026-এর প্রার্থী তালিকা ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে বাংলায়। All India Trinamool Congress বাংলা থেকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য যে চার জনকে বেছে নিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা Rajeev Kumar। এই নাম সামনে আসতেই অতীতের একটি বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে শাসক দলকে নিশানা করেছে বিরোধীরা, বিশেষ করে Bharatiya Janata Party।
২০১৯ সালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন বহুচর্চিত Sarada Scam তদন্তে রাজীব কুমারের নাম সামনে আসে। সেই সময় তাঁর বাসভবনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি দল পৌঁছলে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। ওই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee নিজে ধর্নায় বসেছিলেন, যা সেই সময় জাতীয় রাজনীতিতেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
বহু বছর পর আবার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন রাজীব কুমার। এবার তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন Rahul Sinha। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে কটাক্ষ করেন। বিশেষ করে রাজীব কুমারকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন।
রাহুল সিনহার দাবি, রাজীব কুমারের কাছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা প্রকাশ্যে এলে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, সেই কারণেই তাঁকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর কাছে মাথা নত করতে হয়েছে।
প্রায় একই সুর শোনা গিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari-র বক্তব্যেও। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, অতীতের ঘটনাকে সামনে রেখে রাজীব কুমারকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, ওই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছিল এবং সেই কারণেই তাঁকে এই পদে পাঠানো হচ্ছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই আবার আলোচনায় এসেছে রাজীব কুমারের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবন। Azamgarh-এ তাঁর জন্ম। দেশের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করার পর তিনি প্রশাসনিক পরিষেবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
১৯৮৯ সালে তিনি ভারতীয় পুলিশ পরিষেবায় যোগ দেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে কাজ শুরু করেন। ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এবং ধীরে ধীরে রাজ্যের শাসক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠেন।
এবার তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যে আগামী দিনে আরও তীব্র হবে, তা বলাই যায়।




















