দেশ – সোমবার রাজ্যসভার ১১টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই আসনগুলি রয়েছে বিহার, ওড়িশা এবং হরিয়ানায়। সংশ্লিষ্ট দফায় মোট ৩৭টি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৫টি আসন-সহ মোট ২৬টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
বর্তমানে রাজ্যসভার মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১৩৪টি আসন রয়েছে এনডিএ-র দখলে। বিরোধী শিবিরের দখলে রয়েছে ৮০টি আসন। এই পর্বের ভোট শেষে উচ্চকক্ষে এনডিএ আরও শক্ত অবস্থানে থাকবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
বিহারে যে পাঁচটি আসনে ভোট হবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা জেডিইউ নেতা রামনাথ ঠাকুর এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শীবেস কুমার। পঞ্চম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে প্রধান বিরোধী দল আরজেডি। সেই আসনে জয় নির্ভর করছে আসমাউদ্দিন ওয়েইসির এআইএমআইএম-এর সমর্থনের উপর। ইতিমধ্যে আরজেডি নেতৃত্ব এআইএমআইএম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। পরে এআইএমআইএম জানিয়েছে, তাদের বিধায়কেরা আরজেডি প্রার্থী অমরেন্দ্র ধারী সিং-কে সমর্থন করবে।
বিহারের ভোটকে ঘিরে আরও একটি চর্চা রয়েছে। শাসক জোটের একাংশের দাবি, বিরোধী শিবিরের কিছু বিধায়ক নীতীশ কুমারকে ভোট দিতে পারেন। রাজ্যসভার নিয়ম অনুযায়ী, ভোট প্রদানের পর প্রার্থীর এজেন্টকে ব্যালট দেখিয়ে তা বাক্সে ফেলতে হয়, ফলে প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ থাকে।
ওড়িশায় চারটি আসনে ভোট নিয়ে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি। কংগ্রেস তাদের এক বিধায়ককে দলবিরোধী আচরণের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। অন্যদিকে শাসক দল বিজেপি তাদের বিধায়কদের পারাদ্বীপের একটি হোটেলে রেখেছে। সোমবার সকালে পুলিশ প্রহরায় তাঁদের বিধানসভায় আনা হবে।
ওড়িশায় রাজ্যসভা নির্বাচনকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। বেঙ্গালুরু পুলিশ একটি হোটেলে টাকা লেনদেনের সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা বিজেপির পক্ষে ভোট প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্ল্যাংক চেক উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ওড়িশা বিধানসভায় কংগ্রেসের উপনেতা ভুবনেশ্বরে থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁর দাবি অনুযায়ী রাজ্যসভা নির্বাচনে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের চেষ্টা চলছে।
হরিয়ানায় রাজ্যসভার দুটি আসনে ভোটকে ঘিরেও উত্তেজনা রয়েছে। সেখানেও শাসক ও বিরোধী উভয় শিবির তাদের বিধায়কদের হোটেলে রেখেছে। সোমবার সকাল ১০টায় তাঁদের বিধানসভায় উপস্থিত করা হবে বলে জানা গেছে।



















