রাজ্য – রাজ্যজুড়ে চলা এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ সব জায়গায় সমান গতিতে হচ্ছে না, এমন খবর বুধবার প্রকাশ্যে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৮৮.০৮ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে। বৃহৎ রাজ্যগুলির মধ্যে বাংলার হার সর্বোচ্চ হলেও প্রায় ৪০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ফর্ম বিতরণের হার এখনও ৭৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার রাতেই রাজ্যের ইআরওদের (ERO) সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ভূতুড়ে, স্থানান্তরিত বা একাধিক স্থানে নাম থাকা ভোটারদের কোনওভাবেই খসড়া ভোটার তালিকায় (Draft Voter List) অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এছাড়া, বিএলওদের (BLOs) দায়িত্বে কোনও গলদ বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহের সময় নিশ্চিত করতে হবে, কোথাও যেন ‘অস্তিত্বহীন’ বা অপ্রাসঙ্গিক নাম (Fake Voters) তালিকাভুক্ত না হয়। অবহেলা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বিএলওকেই দায় নিতে হবে, এবং প্রমাণ মিললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকে সমস্ত নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক ভার্চুয়ালি যোগ দেন। আলোচ্য বিষয় ছিল কোথায় কত ফর্ম বিতরণ হয়েছে, কোথায় বিলম্ব বা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে জানা গেছে, যে সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে ফর্ম বিতরণের হার এখনও ৭৫ শতাংশের নিচে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে—শিলিগুড়ি, কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ, তপন, পলাশিপাড়া, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, জগদ্দল, নওয়াপাড়া, খড়দহ, পানিহাটি, রাজারহাট, নিউটাউন, রাজারহাট গোপালপুর, বিধাননগর, জয়পুর, বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, সোনারপুর দক্ষিণ, কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মহেশতলা, মেটিয়াবুরুজ, কলকাতা পোর্ট, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, হাওড়া উত্তর, হাওড়া দক্ষিণ, খড়গপুর সদর, দুবরাজপুর, শিউড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কুলটি।
এখন এই কেন্দ্রে জেলা প্রশাসন ফর্ম বিতরণের গতি বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই ১০০ শতাংশ ফর্ম বিতরণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।



















