মালদা – রাতের অন্ধকারে প্রাচীন হরিবাসর মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে। মন্দিরে থাকা পাঁচটি ঠাকুরের মূর্তি ভেঙে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় মন্দির থেকে কিছুটা দূরে একটি আমবাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি সামনে আসতেই গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুরের রাঙ্গাইপুর এলাকার খেজুরবাড়িতে অবস্থিত প্রাচীন এই হরিবাসর মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত পুজো হয়ে আসছে। বুধবার গভীর রাতে কেউ বা কারা মন্দিরে প্রবেশ করে ঠাকুরের মূর্তিগুলি তুলে নিয়ে যায় এবং মন্দির থেকে দূরে আমবাগানে ভেঙে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ। সকালে গ্রামবাসীরা ভাঙা মূর্তি দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি মনোজিৎ সরকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে যান চাঁচল মহকুমা আধিকারিকও। কীভাবে এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত।
মূর্তিভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলেই দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, এই এলাকায় বরাবরই সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রয়েছে। এমন ঘটনা সেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উপর আঘাত।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁরাও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















