মহালয়ার ভোরেই চলে গেলেন রামায়ণের ‘রাবণ’

মহালয়ার ভোরেই চলে গেলেন রামায়ণের ‘রাবণ’

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram
রাবণ

মহালয়ার ভোরেই চলে গেলেন রামায়ণের ‘রাবণ’। এদিন  মহালয়ার খুব  ভোরেই চলে গেলেন রামায়ণের ‘রাবণ’ অরবিন্দ ত্রিবেদী। ৮২ বছরে প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। রামানন্দ সাগরের রামায়ণে রাবণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সালের ‘রামায়ণে তাঁকে দেখা গিয়েছিল সেই চরিত্রে। তখন থেকেই তাঁর সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার মুম্বইতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। অরবিন্দ ত্রিবেদীর মৃত্যু সম্পর্কে জানিয়েছেন তাঁর ভাগ্নে কৌস্তুভ ত্রিবেদী।

 

বুধবার সকালে অরবিন্দ-র রামায়ণের সহ-অভিনেতা সুনীল লাহিড়ি ইনস্টাগ্রামে প্রয়াত অভিনেতার একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘খুব দুঃখের খবর এই যে আমাদের সবার প্রিয় অরবিন্দ ভাই (রামায়ণের রাবণ) আর আমাদের মধ্যে নেই। ভগবান ওঁর আত্মাকে শান্তি দিক। আমি ভাষা হারিয়েছি। বাবার মতো একজন মানুষ, যে ছিল আমার শুভাকাঙ্খী ছিলেন, আমার পথপ্রদর্শক ছিলেন, আর ছিলেন একজন খুব ভালো মানুষ।’ বেশ কিছু বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন অভিনেতা। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। অরবিন্দের ভাগ্নে সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, ‘গত কয়েক বছর ধরেই শরীর ভালো ছিল না মামার। গত তিন বছরে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছিল।

 

বেশ কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘গত মাসেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছিলেন। মঙ্গলবার রাত ৯.৩০ নাগাদ তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। মুম্বইয়ের কান্দিভালির বাড়িতেই মারা যান তিনি।’ জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে হওয়ার কথা আছে অরবিন্দের শেষকৃত্য। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতে অরবিন্দের মৃত্যু নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলের ভুল ভাঙিয়েছিলেন লাহিড়ি। সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন যেন সঠিকভাবে না জেনে এই ধরনের খবর প্রচার বা ছড়ানো না হয়।

 

আর ও  পড়ুন          মহালয়ার দিন তর্পণ করার রীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ রীতি, কি সেই রীতি

 

রামায়ণের পাশাপাশি বিক্রম-বেতালেও কাজ করেছিলেন অরবিন্দ ত্রিবেদী। বহু বছর ধরে যা সম্প্রচার করা হত টেলিপর্দায়। অরবিন্দ ত্রিবেদীর জন্ম মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নী শহরে। গুজরাটি থিয়েটার দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁর ভাই উপেন্দ্র ত্রিবেদীও গুজরাটি সিনেমার সুপরিচিত নাম এবং বহু গুজরাটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অরবিন্দ ত্রিবেদী গুজরাটি ভাষার ধর্মীয় এবং সামাজিক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে গুজরাটি দর্শকদের মধ্যে স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন। প্রায় ৪০ বছর তিনি এই পেশায় ছিলেন। অসাধারণ অভিনয়ের জন্য অনেক পুরস্কারও পেয়েছিলেন অরবিন্দ ত্রিবেদী।

 

করোনার লকডাউনের সময় টেলিভিশনে রামায়ণ অনুষ্ঠানটি পুনরায় সম্প্রচারিত হয়েছিল। ত্রিবেদী কমপক্ষে ৩০০ হিন্দি এবং গুজরাটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ২০০২ সালে তাঁকে সেন্ট্রাল বোর্ড ফর ফিল্ম সার্টিফিকেশন এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও করা হয়। এছাড়াও তিনি ১৯৯১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির টিকিটে সাংসদ হন এবং পাঁচ বছর এই পদে ছিলেন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top