রাজ্য – সোমবার পরিবর্তন সভার কর্মসূচি নিয়ে রায়দিঘিতে এসে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির রথযাত্রা শুরু হয়েছে, আর সেই সূত্রে একের পর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ বিজেপি নেতারা রাজ্যে এসে সভা করছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, এসব সভা থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হচ্ছে। এরই পাল্টা হিসেবে একই জায়গায় সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল সূত্রে খবর, আগামী ৮ মার্চ রায়দিঘিতে সভা করবেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহ যে স্থানে বক্তব্য রেখেছিলেন, ঠিক সেই জায়গাতেই পাল্টা সভা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিজেপিকে আক্রমণ শানাচ্ছেন অভিষেক। নজরুল মঞ্চে তপসিলি সংলাপ কর্মসূচিতেও তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সরব হন।
এদিকে এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে উঠেছে। ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’-র মতো বিষয় সামনে এনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে শনিবার প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৫ সালের তালিকার নিরিখে মোট ৬৩ লক্ষেরও বেশি ভোটার বাদ পড়েছেন বলে দাবি। পাশাপাশি প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার এখনও ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন। এই ইস্যুতেই নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিষেক।
আগামী ৮ মার্চ সভার তারিখ নির্ধারণের পিছনেও রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধর্নায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে এই কর্মসূচি বলে তৃণমূলের দাবি। সেই কর্মসূচির পরই রায়দিঘিতে বড় সমাবেশ করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই জেলা নেতৃত্বকে প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সভাস্থল প্রস্তুত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। অমিত শাহের মন্তব্য—তৃণমূল জিতলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন অভিষেক—এই মন্তব্যেরও জবাব দিতে চলেছেন তিনি নিজেই।



















