বিনোদন – গত ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে তলিয়ে প্রয়াত হন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে অসংগতি এবং বিষয়টি নিয়ে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স-এর কাছে জবাব চেয়েছিল Artist Forum। সংস্থার তরফে উত্তর এলেও তা সন্তোষজনক হয়নি বলে জানিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম। এরপর ৩ এপ্রিল রাতে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে।
জানা গিয়েছে, ৪ এপ্রিল দুপুর ২টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হবে। যদিও সেই সময়ে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সাংবাদিক সম্মেলনে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি পরামর্শ নিয়েই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হবে।
এদিকে, একই দিনে রাহুলের বন্ধুরাও তাঁর মৃত্যুর বিচার চেয়ে মিছিলের ডাক দিয়েছেন। টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে রাধা স্টুডিও পর্যন্ত এই মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় টলিউড মহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং শিল্পী মহলে ক্ষোভ বাড়ছে।
আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ভরত কল, পায়েল দে, আবির চট্টোপাধ্যায় এবং দিগন্ত বাগচি-সহ আরও অনেকে। বৈঠক শেষে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, যিনি চলে গিয়েছেন তাঁকে আর ফেরানো যাবে না, তবে সত্যিটা জানার জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, ওড়িশার তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন আচমকাই জলে পড়ে যান রাহুল। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর দেহ কলকাতায় আনা হয় এবং কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর ছেলে সহজ মুখাগ্নি করেন।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে টলিউডে সক্রিয় ছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ছোটপর্দা, বড়পর্দা এবং ওয়েব প্ল্যাটফর্ম—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছিল। এছাড়াও ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’ এবং ‘ঠাকুমার ঝুলি’-র মতো প্রজেক্টে তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি ‘সহজ কথা’ নামে একটি পডকাস্টও সঞ্চালনা করতেন তিনি।




















