বিদেশ – মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নতুন দফার পর ফের আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রে উঠে এল ভারতের রুশ তেল কেনার প্রশ্ন। Marco Rubio দাবি করেছেন, ভারত ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা আর রাশিয়া থেকে নতুন করে তেল কিনবে না। যদিও এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে ভিন্ন সুর শোনালেন বিদেশমন্ত্রী S. Jaishankar। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য সামনে এসেছে।
শনিবার Munich Security Conference-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুবিও বলেন, আলোচনায় ভারত জানিয়েছে যে নতুন করে রুশ তেল আমদানি করা হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
একই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত সবসময় ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয়। তাঁর কথায়, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অঙ্গ এবং কোনও চুক্তি বা চাপের কারণে দেশের নীতিগত অবস্থান বদলাবে না। তিনি আরও জানান, তেলের বাজার অত্যন্ত জটিল—প্রাপ্যতা, দাম এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এবং সেই সিদ্ধান্ত সর্বদা দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়।
Russia-Ukraine War শুরুর পর গত কয়েক বছরে ভারত তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল আমদানি করেছে। বর্তমানে দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩৫ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখন প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে।
কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছিলেন, বাণিজ্যিক সমঝোতার অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। এর আগেও তিনি এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং ‘শাস্তি’ হিসেবে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী Sergey Lavrov জানিয়েছেন, ভারত এমন কোনও আশ্বাস দেয়নি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের দাবি শুধুমাত্র মার্কিন কর্মকর্তাদের তরফ থেকেই করা হচ্ছে।
ভারত আগেই স্পষ্ট করেছিল যে দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। তেল আমদানির ক্ষেত্রে কোনও বাহ্যিক চাপে নীতিগত আপস করা হবে না। মিউনিখে জয়শঙ্করের বক্তব্যের পর সেই অবস্থানই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।




















