নয়াদিল্লি: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর সম্ভাবনা ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বদলের খবরে তা কিছুটা কমেছে। প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের রফতানি এবং আমেরিকার বাজারে সেগুলির প্রতিযোগিতার উপর প্রভাব পড়তে পারত। ভারত ছাড়াও চিনের মতো দেশ এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনা নিয়ে ভারত-সহ একাধিক দেশের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। রুশ তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতীয় পণ্যের উপর বিপুল শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসে রাশিয়া-সংক্রান্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক প্রয়োগে ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
গত মাসে ‘লিন্ডসে ও গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ নামে একটি বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ওই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সম্ভাবনা ঘিরে ভারত ও চিনের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হলে মার্কিন বাজারে সেগুলির দাম বাড়তে পারত। একই সঙ্গে ভারতীয় রফতানিকারীদের ব্যবসার খরচ ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই কারণেই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্কনীতি নিয়ে ভারতের বাণিজ্য মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল।
তবে শুল্ক আরোপের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং তার বাস্তবায়নের শর্তগুলি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ট্রাম্পের অবস্থান বদলের খবর স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও, ভারত-মার্কিন বাণিজ্যে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি ঘোষণা ও কার্যকর নীতির উপর।




















