রুশ তেল বাণিজ্যে লাগাম টানতে কঠোর আমেরিকা, ভারতের উপর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ার আশঙ্কা

রুশ তেল বাণিজ্যে লাগাম টানতে কঠোর আমেরিকা, ভারতের উপর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ার আশঙ্কা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বিদেশ – রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে আমেরিকা। রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিদলীয় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির উপর শুল্ক ও সেকেন্ডারি স্যাংশনের চাপ বহুগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই প্রেসিডেন্ট এই প্রস্তাবিত আইনটির প্রতি সমর্থন জানান। পরে হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফলে বিষয়টি এখন আর জল্পনার স্তরে নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

গ্রাহাম-ব্লুমেনথাল বিল পাশ হলে, রাশিয়ার তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম জেনে-শুনে আমদানি করছে— এমন দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা পাবে মার্কিন প্রশাসন। এই আইনের মূল লক্ষ্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ অর্থনীতির অর্থের জোগান বন্ধ করা।

এই আইন প্রস্তাবটি যৌথভাবে এনেছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। সেনেটে ইতিমধ্যেই এই বিলের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন। পাশাপাশি, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসেও সমান্তরাল একটি বিল পেশ করেছেন রিপাবলিকান সাংসদ ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক। ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে প্রেসিডেন্টের জন্য কিছুটা নমনীয়তা রাখার দাবিতে আগেই সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছিল প্রশাসন। সেই পরিবর্তনগুলি চূড়ান্ত খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই আবহে ভারতের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানির জেরে ইতিমধ্যেই ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্ক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার শর্ত জোরালোভাবে তুলে ধরছে ওয়াশিংটন।

এ ছাড়াও রাশিয়ার তেল সংস্থা রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ভারত এখনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপানো হতে পারে। এই মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তবে এই চাপের মধ্যেও নয়াদিল্লি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ভারতের বক্তব্য, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাধারণ উপভোক্তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন উৎস থেকে কতটা সাশ্রয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রায় চার বছরে পা রাখতে চলেছে। সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এই শান্তি আলোচনায় আমেরিকার প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top