রেকর্ড স্কোরবোর্ডে, ট্রফি মায়ের কাছে—কোহলির কাছে মাইলস্টোন নয়, পরিস্থিতিই আসল

রেকর্ড স্কোরবোর্ডে, ট্রফি মায়ের কাছে—কোহলির কাছে মাইলস্টোন নয়, পরিস্থিতিই আসল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


খেলা – ট্রফি জেতা তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। কেরিয়ারের এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আর আলাদা করে কোনও মাইলস্টোনের খোঁজও নেই। তবু সাফল্যের স্বীকৃতি যে ভিতর থেকে উজ্জীবিত করে, তা অস্বীকার করেন না বিরাট কোহলি। রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডের পর নিজের ভাবনা ও দর্শন একেবারে সোজাসাপটা ভাষায় তুলে ধরলেন ভারতের তারকা ব্যাটার।
৩৭ বছর বয়সে আরও এক ইতিহাস গড়েছেন কোহলি। কিউয়িদের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ২৮ হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি। ৬২৪তম ইনিংসে এই কৃতিত্ব অর্জন করে পিছনে ফেলেন কুমার সাঙ্গাকারাকে। চার মেরে মাইলস্টোন ছোঁয়ার মুহূর্তের পাশাপাশি জোটে ম্যাচসেরার পুরস্কারও—কেরিয়ারের ৪৫তম বার।
তবে সংখ্যার হিসাবের চেয়েও কোহলির বক্তব্যে বেশি গুরুত্ব পেল তাঁর মানসিকতা। তাঁর কাছে গোটা যাত্রাটাই যেন স্বপ্নের মতো। কোনও নাটকীয় আবেগ নয়, কোনও অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস নয়—শুধু কৃতজ্ঞতা। কোহলি বলেন, নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে তিনি সবসময়ই সচেতন ছিলেন। কিন্তু আজ যে জায়গায় পৌঁছেছেন, তার জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়েছে। ঈশ্বর তাঁকে অনেক কিছু দিয়েছেন, তাই অভিযোগ করার কোনও জায়গা নেই। খেলার মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দিতে পারাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এই ম্যাচে ৯৩ রান করেও সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছে। তবে তাতে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই কোহলির। তাঁর সাফ বক্তব্য, এখন আর মাইলস্টোন মাথায় রেখে খেলেন না। পরিস্থিতিই আসল। রান তাড়া করার সময় উইকেট পড়ে গেলে দায়িত্ব নিতে হয়। তখন আক্রমণ নয়, ম্যাচের দাবি বুঝে খেলা জরুরি। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা মানেই ঝুঁকি, কিন্তু শুধু অপেক্ষা করলে চলবে না—নিজের শক্তিতে ভরসা রেখে চাপ তৈরি করতে হয় বলেই মনে করেন তিনি।
রোহিত শর্মা আউট হওয়ার পর ক্রিজে নেমে দ্রুত রান তোলাকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করছেন কোহলি। প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়াই তখন মূল লক্ষ্য ছিল। তাঁর ব্যাটিংয়ে সেই আত্মবিশ্বাসই ধরা পড়ে।
ম্যাচের পর আরেকটি বিষয় নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়—নিজের জেতা ট্রফি কেন ঘরে সাজিয়ে রাখেন না কোহলি? উত্তরে হাসিমুখে তিনি বলেন, “মা ট্রফি রাখতে ভালোবাসে।” তাই সব স্মারক পাঠিয়ে দেন গুরুগ্রামে, মায়ের কাছে। এর পিছনে কোনও দর্শন বা ইমেজ তৈরির গল্প নেই, নিছক পারিবারিক ভালবাসাই আসল কারণ।
গ্যালারিতে নিজের নামে চিৎকার নিয়েও এক ধরনের অস্বস্তির কথা স্বীকার করেছেন কোহলি। কেউ আউট হওয়ার পর তাঁর নাম ধরে উল্লাস শুনতে ভালো লাগে না বলেই জানান তিনি। এমএস ধোনির সময়েও এমন হয়েছে। তবে দর্শকদের আবেগ তিনি বোঝেন এবং নিজের কাজে মন দেওয়াটাকেই প্রাধান্য দেন।
ভারত অধিনায়ক শুভমান গিলও ম্যাচ শেষে কোহলির প্রশংসায় মুখর। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে কোহলি ব্যাটিংকে ভীষণ সহজ করে তুলেছেন। এমন ফর্মে থাকলে দলের লাভই হবে।
ট্রফি থাকুক মায়ের কাছে, রেকর্ড থাকুক স্কোরবোর্ডে। বিরাট কোহলির লক্ষ্য এখন একটাই—বিশ্বকাপ। সেই মঞ্চের জন্যই নিজেকে তৈরি করছেন তিনি। বর্তমান ফর্ম বলছে, হাসতে হাসতেই রান আসছে, বড় ইনিংস আসছে। এই ধারাবাহিকতাই কোহলির সবচেয়ে বড় শক্তি।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top