রেড জোনকে ভেঙে আরও ৩ ভাগ, চালু করা যাবে খাবারের দোকানে টেক অ্যাওয়ে

রেড জোনকে ভেঙে আরও ৩ ভাগ, চালু করা যাবে খাবারের দোকানে টেক অ্যাওয়ে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

১২ মে, রাজ্যের কোনও কথাই শুনছে না কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই নিয়ে রীতিমত উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সোমবারের সেই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন লকডাউন কোথায় কতটা কার্যকর করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার। আর মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সেই রকমই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারপর আজই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করার পরই রাজ্যের জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানালেন যে পুরোপুরি ভাবে করোনা নিরাময় এই মুহূর্তে সম্ভব নয়, তাই তিনমাসের জন্য শর্টটার্ম প্ল্যান করছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে করোনা পরিস্থিতির সামলাতে রেড জোনকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। রেড জোন এ-তে কিছুই করা যাবে না, রেড জোন বি-তে সামাজিক দূরত্ব মানলে ছাড় দেওয়া হবে। সেরকম রেড জোন সি-তে শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে ছাড় দেওয়া হবে। পুলিশকে এই মর্মে একটা প্রাথমিক গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পরিকল্পনা করে ঠিক করবে কোন জোনে কী ছাড় দেওয়া হবে। গ্রীন জোনের মধ্যে বাস-ট্যাক্সি চালানো যেতে পারে।

করোনা মোকাবিলায় রেড জোনকেও এবার ৩ ভাগে ভাগ করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেড জোনকে A, B ও C- এই ৩ ভাগে ভাগ করা হবে। A হচ্ছে কনেটেইনমেন্ট জোন। সেখানে কিছুই ছাড় দেওয়া হবে না। B হচ্ছে তুলামূলক কম সংক্রমণ যেখানে, সেখানে কিছু কিছু দোকানপাট খোলা হবে। আর C এলাকায়, যেখানে সংক্রমণ আরও কম, সেখানে অনেক দোকানপাট-ই খোলা হবে। তবে কী কী খোলা হবে, সেটা স্থানীয় প্রশাসন স্থির করবে। জেলার ক্ষেত্রে জেলাশাসক স্থির করবেন। আর কলকাতার ক্ষেত্রে পুলিস কমিশনার ঠিক করবেন। এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বর্তমানে সবুজ ও কমলা জোনে লকডাউনের নিময় শিথিল করা হলেও লাল জোনে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে লাল জোনেও আর্থিক কাজকর্ম শুরু করেতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে লাল জোনের ‘এ’ চিহ্নিত একালায় এখনই তিতে লাল জোনেও আর্থিক কাজকর্ম শুরু করেতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে লাল জোনের ‘এ’ চিহ্নিত একালায় এখনই কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেই সূত্রের খবর। কিন্তু ‘বি’ ও ‘সি’ একালায় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াহচ্ছে। ‘বি’ চিহ্নিত এলাকায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই ছাড় দেওয়া হবে। ‘সি’ চিহ্নিত এলারায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলছে প্রশাসন। গ্রামীণ এলাকায় অর্থনীতি চাঙ্গা করতে জেলা শাসকসহ প্রশাসনিক আর্ধিকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এত তাড়াতাড়ি রেহাই পাওয়া যাবে না করোনা থেকে। যা লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। এদিন সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লকডাউন আরও দীর্ঘ মেয়াদি স্তরে কার্যকর করার ক্ষেত্রে শর্ট টার্ম, মিড টার্ম ও লং টার্ম পরিকল্পনা করতে হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী খাবারের দোকান খোলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ছোট খাবারের দোকানগুলি খুলবে। কোনও বড় রেস্তরাঁ এখনই খুলছে না। তবে ছোট দোকানেও বসে খাওয়া যাবে না। শুধু টেক অ্যাওয়ে চালু করা যাবে।

এছাড়া জুয়েলারি, ইলেকট্রিক্যাল গুডস, ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল রিপেরিয়ারিং, চার্জিং প্রভৃতি দোকানগুলি খোলা যাবে। বেলা ১২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানগুলি। কনটেইনমেন্ট জোনের মধ্যেও পাড়ার ভিতর কোন কোন STAND ALONE দোকানগুলি খোলা যায়, সেই বিষয়ে ৩ দিনের মধ্যে স্থানীয় পুলিস সিদ্ধান্ত নেবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সিনেমা-সিরিয়ালের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে এডিটিং-ডাবিং চালু হবে। তবে নতুন শুটিং নয়।লকডাউনের জেরে কার্যত অর্থনীতি ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই গ্রামীণ অর্থনীতি চালু করার উপর জোর দিয়ে এগোতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘দু’মাস ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ। জেলাশাসকদের বলা হচ্ছে, ১০০ দিনের কাজে জোর দিতে। আরও বেশি লোককে কাজে নিয়োগ করতে। এ ছাড়া ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদেরও কাজ দেওয়ার জন্য জেলাশাসকদের বলা হয়েছে।’’

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top