দেশ – কেন্দ্রীয় বাজেটের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব একটা পূরণ হয়নি বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেই আবহেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেট সংক্রান্ত ঘোষণাও আমজনতার মুখে হাসি ফেরাতে পারল না। শুক্রবার সকালে আরবিআই জানায়, রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসে কমিয়ে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে আনা হয়েছিল, সেই হারই বহাল থাকছে। ফলে গাড়ি, বাড়ি কিংবা অন্যান্য ঋণের ইএমআইয়ে আপাতত কোনও স্বস্তি মিলছে না।
দু’মাস অন্তর মুদ্রানীতি সংক্রান্ত বৈঠকে বসে আরবিআইয়ের মনিটরি পলিসি কমিটি। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বে গত তিনদিন ধরে সেই বৈঠক চলে। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আপাতত রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন আনা হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরে একাধিক দফায় রেপো রেট কমানো হয়েছে। তার প্রভাব অর্থনীতিতে কতটা পড়ছে, সেটাই আগে বুঝে নিতে চাইছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় বাজেট এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ফলে আগামী দিনে অর্থনীতির গতি বাড়তে পারে। তবে এখনই ফের রেপো রেট কমালে তার প্রভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা করছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। তাই আগের সিদ্ধান্তের ফলাফল খতিয়ে দেখতেই আপাতত রেপো রেট স্থির রাখা হয়েছে।
গত বছরের জুন মাসে মুদ্রানীতির বৈঠকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমানো হয়। তার ফলে রেপো রেট দাঁড়ায় ৫.৫ শতাংশে। তার আগে ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল মাসেও দফায় দফায় রেপো রেট কমিয়েছিল আরবিআই। মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর ফলে ক্যাশ রিজার্ভ রেট নেমে আসে ৩ শতাংশে। সেই কারণেই আগস্ট মাসে রেপো রেট কমানো হয়নি। পরে ডিসেম্বর মাসে ফের ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে রেপো রেট নামানো হয় ৫.২৫ শতাংশে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২২ সালের মে মাস থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একাধিক দফায় রেপো রেট বাড়ানো হয়েছিল। ওই সময় মোট ২৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বৃদ্ধি পায়। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে একবারও রেপো রেট বাড়ানো হয়নি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে এবং টানা তিনবার রেপো রেট কমানো হয়। সেই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়েছে, তা যাচাই করতেই এবার রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার পথে হাঁটল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।




















