
মহারাষ্ট্র, ২৪ এপ্রিল, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই মত দেশের সব কটি রাজনৈতিক দল কেন্দ্র সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্ত নিজামউদ্দিনের ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলি অবস্থান বদল করতে থাকে। কারণ নিজামউদ্দিনের ঘটনাকে সামনে রেখে করোনা মোকাবিলায় হিন্দু-মুসলিম দুটি সম্প্রদায়ে ভাগ করার চেষ্টা করা হয়। মিডিয়া এই কাজটি সফলভাবে করলেও শাসক দল বিজেপি দেশের স্বার্থে কোনোভাবে মিডিয়ার এই বিপজ্জনক খেলা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়নি। এরপরেই দেখা গেল মহারাষ্ট্রের পালঘরের ঘটনা। এখানে দুইজন সাধুকে পিটিয়ে খুন করা হয়। এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রং দিয়ে পরিবেশন করে মিডিয়া। আর তা নিয়ে মহারাষ্ট্রের শাসক দল শিবসেনা-কংগ্রেস -এনসিপি প্রতিবাদে মুখর হয়। পালঘরের ঘটনাকে সামনে রেখে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে বেনজির ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী।
এরপরেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বিজেপিকে আক্রমণ করতে শুরু করে। এদিকে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী মোদী সরকারের প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেন। কংগ্রেস নেত্রী বলেছেন, “আমরা প্রত্যেকেই ভারতীয়। যখন দেশের এই পরিস্থিতিতে আমাদের একজোট হয়ে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করা উচিত, বিজেপি তখন সাম্প্রদায়িকতা ও হিংসার ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। কিছুদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ভাবমূর্তি আছে তার অত্যন্ত অবনতি হয়েছে। এই ক্ষতি মেটাতে যদিও আমাদের দল কঠোর পরিশ্রম করবে”।
সম্প্রতি কংগ্রেসের তরফে একটি কার্যনির্বাহী বৈঠক করেন সভানেত্রী। আর তারপরেই সোনিয়া গান্ধী জানান, “দুর্ভাগ্যবশত, বিজেপি আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করতে কার্পণ্য করেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের আরও বেশি করে মমত্ববোধ, উদার মানসিকতা এবং তত্পরতা দেখানো উচিত ছিল। কিন্তু তা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে”।এর আগেও দেখা যায় করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পরামর্শ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও চিঠি লেখেন সনিয়া গান্ধি। কিন্তু তারপরেই কংগ্রেসের দেওয়া পরামর্শ মানতে অনীহা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র, এমনটাও দাবি করেন তিনি।অভিবাসী শ্রমিকরা তীব্র অসুবিধা ও সঙ্কটের মধ্যে পড়েছেন। “বিশেষত আমাদের দেশের কৃষক ও ক্ষেত মজুররা, অভিবাসী শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক এবং অসংগঠিত খাতে শ্রমিকরা চরম দুর্দশায় কাটাচ্ছেন”, বলেন সনিয়া গান্ধি।“৩ মে পরেও বা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে সে সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও স্পষ্ট ধারণা দেয়নি”, একথা বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে।



















