রাজ্য – সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নতুন প্রকল্প ‘যুবসাথী’-র ঘোষণা করে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে All India Trinamool Congress। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের এক বড় অংশকে সরাসরি স্পর্শ করা গিয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। আর তাতেই চাপে পড়েছে কি Communist Party of India (Marxist)? আলিমুদ্দিনে রাজ্য কমিটির বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে ঠিক এই প্রশ্নই।
সূত্রের খবর, বৈঠকে একাধিক সিপিএম নেতা স্বীকার করেছেন যে লক্ষ্মীর ভান্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা তাদের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। যে প্রকল্প একসময় কটাক্ষের নিশানায় ছিল, আজ সেই প্রকল্পই বামেদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাতার রাজনীতি বলে সমালোচনা করা হলেও বাস্তবে এই প্রকল্পগুলি তৃণমূলকে কিছুটা হলেও এগিয়ে দিয়েছে—এমন মতও উঠে এসেছে বৈঠকে।
এদিকে বর্তমানে প্রতীক উরের দল ছাড়ার প্রসঙ্গ নিয়েও শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও রাজ্য কমিটির বৈঠকের প্রথম দিনে এই বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি, মূল ফোকাস ছিল লক্ষ্মীর ভান্ডার ও যুবসাথী। শুক্রবার বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতীক উর প্রসঙ্গে কী অবস্থান নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করবেন রাজ্য নেতৃত্ব, এমনটাই জানা গিয়েছে।
দলের প্রার্থী তালিকা নিয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে খবর। প্রায় ৮০ শতাংশ আসন নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন, বাকি ২০ শতাংশ শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত হবে। তবে তার আগেই আলিমুদ্দিনে দুশ্চিন্তার মেঘ ঘনিয়েছে। প্রতীক উরের দলত্যাগের পর আরও কেউ লাইনে রয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে দলের অন্দরে।
নির্বাচনের আগে সামাজিক প্রকল্পকে হাতিয়ার করে তৃণমূল যে রাজনৈতিক জমি শক্ত করছে, তা এখন স্পষ্ট। সেই প্রেক্ষাপটে বামেদের পাল্টা কৌশল কী হবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



















