অফ বিট- ধর্ম, প্রকৃতি আর আত্মিক শান্তির খোঁজ—এই তিনের অপূর্ব মেলবন্ধন ঋষিকেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পর্যটনের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। তারই ফলশ্রুতিতে হরিদ্বার-ঋষিকেশে এখন প্রায় সারাবছরই পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ে। ঋষিকেশের অন্যতম প্রতীক লছমন ঝুলা বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ থাকলেও, ভ্রমণের আনন্দ যে থেমে যাবে এমনটা নয়। বরং ভিড় এড়িয়ে, প্রকৃতির কোলে দু’দিন শান্তিতে কাটাতে চাইলে ঋষিকেশের আশপাশে লুকিয়ে থাকা কিছু নিরিবিলি জায়গা হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।
ঋষিকেশের অন্যতম প্রাচীন আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ফুল চট্টি আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৮০ সালে। গঙ্গার তীরে পাহাড় ও সবুজে ঘেরা এই আশ্রম যোগ, ধ্যান ও সাধনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। কয়েকদিন এখানে কাটালেই শহরের কোলাহল থেকে দূরে মন যেন হালকা হয়ে আসে। আশ্রমে থাকার জন্য বিভিন্ন আবাসিক প্যাকেজও রয়েছে, যা আধ্যাত্মিক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আরেকটি শান্ত ঠিকানা পাটনা জলপ্রপাত। ঋষিকেশ থেকে মাত্র ৬–৭ কিলোমিটার দূরে ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ট্রেকিং করে পৌঁছতে হয় এই জলপ্রপাতে। বর্ষাকালে জলপ্রপাতের রূপ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। জলপ্রপাতের কাছেই থাকা একটি ছোট গুহা পর্যটকদের কৌতূহল বাড়ায় এবং জায়গাটিকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
নীরগড় জলপ্রপাত তিনটি ধাপে নেমে এসেছে। নীচের অংশে পর্যটকের ভিড় তুলনামূলক বেশি হলেও দ্বিতীয় স্তর অনেকটাই শান্ত ও নিরিবিলি। স্বচ্ছ ঠান্ডা জল, পাথুরে পথ এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। উপর থেকে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য মন ভরিয়ে দেয় যে কোনও পর্যটকের।
যাঁরা ট্রেকিং ও প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য কুঞ্জপুরী ফরেস্ট ট্রেল একেবারে উপযুক্ত। ঘন বন, পাহাড়ি ঢাল, পাখির ডাক আর মাঝেমধ্যে গঙ্গা ও হিমালয়ের বরফঢাকা চূড়ার ঝলক—সব মিলিয়ে এই পথ যেন এক স্বপ্নের জগৎ। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এখানকার সৌন্দর্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে।
ঋষিকেশের কাছেই গঙ্গার তীরে অবস্থিত বশিষ্ঠ গুহা এক নিঃশব্দ সাধনাস্থল হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, মহর্ষি বশিষ্ঠ এখানে দীর্ঘদিন তপস্যা করেছিলেন। আজও গুহার ভিতরের শান্ত পরিবেশ ধ্যানী ও পর্যটকদের মানসিক প্রশান্তি দেয়।
ভিড়ের বাইরে প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা আর নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে এই পাঁচটি জায়গা ঘুরে এলে ঋষিকেশ ধরা দেবে এক অন্য রূপে—যেখানে কোলাহল নেই, আছে শুধু শান্তি ও আত্মিক প্রশ্বাস।



















