লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশ ঘিরে সতর্ক নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশ ঘিরে সতর্ক নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – শনিবার ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকা প্রকাশের আগে এবং তার পরবর্তী হিয়ারিং ও সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে যাতে পশ্চিমবঙ্গে কোনও অশান্তি বা প্রশাসনিক গাফিলতি না ঘটে, সে জন্য কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার নগরপালকে সরাসরি চিঠি পাঠিয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনওরকম বিশৃঙ্খলা, হিংসা বা বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন ও পুলিশের সর্বোচ্চ স্তরকে সতর্ক থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বাংলার নাগরিকদের উদ্দেশে একদিকে আশ্বাস, অন্যদিকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কেউ যাতে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কড়া নজর রাখবে। কোনওরকম বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে এই দুই শ্রেণির ভোটারের তালিকা প্রকাশ্যে টাঙানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সহজে দেখার সুবিধার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস, তালুক স্তরের দফতর এবং শহরের ওয়ার্ড অফিসে এই তালিকা টাঙাতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত, তাঁরা নিজেরা অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন। সেই প্রতিনিধি বুথ লেভেল এজেন্টও হতে পারেন, তবে ভোটারের সই বা টিপসই-সহ অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক।
নথি জমা ও শুনানির জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এলাকার কাছাকাছি নির্দিষ্ট পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস বা ওয়ার্ড অফিস চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর দাবি বা আপত্তি জানানোর জন্য অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেওয়া হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রতিটি ক্ষেত্রে ERO বা AERO-এর মাধ্যমে শুনানি বাধ্যতামূলক। সেই শুনানি সরাসরি বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হতে পারে। নথি গ্রহণ ও শুনানির সার্টিফিকেট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে, যা পরে BLO অ্যাপে আপলোড করা হবে। নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণযোগ্য, যদি তাতে জন্মতারিখ উল্লেখ থাকে—এ কথাও স্পষ্ট করেছে কমিশন।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, আইনি সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান বলে মনে করছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির মধ্যেই এখন নজর বাংলায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ইস্যুর পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top