
রাতের অন্ধকারে মহামতি লেনিনের মূর্তিতে কে বা কারা লাগিয়ে দিল রং। কাটোয়া শহরের ১৬ নং ওয়ার্ড ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে রয়েছে লেনিনের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি। মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে ওই মূর্তির গোটা শরীরে আলতা জাতীয় কিছু তরল ঢেলে দেওয়া হয়েছে। ভাঙার চেষ্টা হয়েছে মূর্তির পাদদেশ। সেখানে দেখা যাচ্ছে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বুধবার সকালে পথচারীরা দেখতে পান লেনিনের এই চেহারা। খবর পেয়ে ছুটে আসেন শহরের সিপিএম নেতারা। দলের জেলা নেতা তথা কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বামবিরোধী মনোভাবাপন্ন লোকেদের কাজ এটা। পুলিশ–প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব, কারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে, অবিলম্বে তাদের খুঁজে বের করুক।’
লেনিনের মূর্তির অবমাননার প্রতিবাদে এদিন বিকেলে মিছিল করে সিপিএম। আগামিদিনে আরও কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব। সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক বলেন, ‘লেনিনের অবদান গোটা বিশ্বে স্বীকৃত। তঁার মূর্তিতে অপমানের দাগ লাগা কোনও সচেতন মানুষ মেনে নেবেন না।’ কাটোয়ার রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত নবতিপর সমাজসেবী প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক হরমোহন সিংহের কথায়, ‘যারা এই হীন কাজ করেছে, তারা কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ হতে পারে না। তারা অমানুষ। আমি এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাই।’ ধিক্কার অবশ্য এদিন ধ্বনিত হয়েছে শহরের সর্বত্রই।
লেনিনের মূর্তির গায়ে রঙিন তরল ঢালার নিন্দায় মুখর হয়েছেন কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘এর আগে কাটোয়া শহরে জওহরলাল নেহরুর পূর্ণাবয়ব মূর্তির শরীরে কালি ছেটানো হয়। মহাপুরুষদের এমন অসম্মানকে তীব্র ধিক্কার জানাই।’ এদিন পুরসভার পক্ষ থেকে মূর্তিটি সাফসুতরো করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল শাসিত পুরসভা লেনিনের মূর্তি সাফ করায় শহরের বহু বাসিন্দার তারিফ কুড়িয়েছে। লেনিনের মূর্তির অবমাননার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কাটোয়া শহরে সভা করবে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। এ কথা জানান সংগঠনের নেতা সোলেমান শেখ। এলাকার কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় অবশ্য এই ঘটনায় বিজেপি–র দিকে আঙুল তুলেছেন। িকন্তু বিজেপি নেতৃত্ব সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কাটোয়া মহকুমা আদালত থেকে থানায় যাওয়ার লেনিন সরণির তেমাথা মোড়ে লেনিনের পূর্ণাবয়ব মূর্তিটি বসানো হয় ১৯৮২ সালে। ২০১৯ সালে পুরসভা মূর্তিটি সংস্কার করে।


















