দেশ – লোকসভায় আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ আলোচনা। শীতকালীন অধিবেশনে জাতীয় গানকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ আলোচনার নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই ঐতিহাসিক গানের জন্মের ১৫০তম বছরে সংসদ মিলনায়তনে একাধিক অজানা তথ্য সামনে আনবেন মোদী—এমনটাই সূত্রের খবর। আজ এবং আগামীকাল, অর্থাৎ ৮ ও ৯ ডিসেম্বর মিলিয়ে মোট ১০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ হয়েছে এই আলোচনার জন্য। দুপুর ১২টায় লোকসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে বক্তব্য রাখবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও।
শুধু লোকসভাই নয়, রাজ্যসভাতেও থাকবে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পৃথক আলোচনা। সেখানে শাসক এনডিএ সাংসদদের জন্য তিন ঘণ্টার সময় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিরোধী দলগুলিও আলোচনায় অংশ নেবে বলে জানা গেছে। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ও গৌরব গগৈর মতো নেতারাও বক্তব্য রাখতে পারেন। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই আলোচনাকে সমর্থন করেছে, কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে সময় নির্বাচন নিয়ে। তাদের দাবি, যখন সারা দেশজুড়ে এসআইআর ইস্যুতে চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গে আগামী বছরই বিধানসভা নির্বাচন, ঠিক তখন কেন বাছাই করা হলো বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা ‘বন্দে মাতরম’-এর মতো বিষয়ে সংসদের সময় ব্যয় করার জন্য—এ নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তি রয়েছে।
১৮৭০-র দশকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই গান লেখেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে সাহস, বীরত্ব এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। যদিও একসময় এটিকে জাতীয় সঙ্গীত করার প্রস্তাব উঠেছিল, শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘জনগণমন’কেই জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ছয় পংক্তির এই গানের প্রথম দুটি পংক্তিই সাধারণত গাওয়া হয়। এ বছর গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গত ১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বছরব্যাপী উদযাপনের ঘোষণা করে। এর মাঝে গত ৭ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে আক্রমণ করে অভিযোগ করেন যে গানটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছিল—সেই মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে।



















